পাকিস্তান-বাংলাদেশ চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেই ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)। শুধু এই সিরিজই নয়, এর আগেও পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১০ম আসরেও ডিআরএসের অনুপস্থিতি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দেশটির ক্রিকেট ভক্তদের মনে। কেন এই আধুনিক প্রযুক্তি নেই, সেই উত্তর খুঁজতে গিয়ে উঠে এসেছে এক বিতর্কিত ইঙ্গিত—ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের নাম।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, ডিআরএসের জন্য প্রয়োজনীয় ‘হক-আই’ প্রযুক্তি পাকিস্তানে পাঠাতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা বলে টেকনিক্যাল দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় তারা।
তবে স্থানীয় কিছু সূত্র এবং পিসিবির ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বিষয়টি শুধু নিরাপত্তা উদ্বেগ নয়—বরং এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ। সরাসরি না বললেও অভিযোগের আঙুল উঠেছে জয় শাহের দিকে, যিনি আইসিসির সর্বোচ্চ পদে থাকার পাশাপাশি বিসিসিআইয়েরও অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানে বড় ক্রিকেটীয় আয়োজনগুলো ভন্ডুল করতে পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, বিশেষত যখন সেটি ভারতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে বলে বিবেচিত হয়।
ক্রিকেটের এই যুগে ডিআরএস আর বিলাসিতা নয়, বরং খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এলবিডব্লিউ, স্লিপে ধরা পড়া বল, অথবা ব্যাটে হালকা ছোঁয়ার মতো সিদ্ধান্তে প্রযুক্তি এখন নির্ভরযোগ্য সহায়ক। ডিআরএস না থাকায় ম্যাচের ফলাফল সহজেই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে—যার প্রভাব পড়ে খেলাধুলার ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার ওপর।
এখন পর্যন্ত হক-আই কিংবা আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি। এমনকি ভবিষ্যতে পাকিস্তানে ডিআরএস প্রযুক্তি ফিরবে কি না, সে বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তবে সিরিজ শেষে পিসিবি এই ইস্যুটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিতে তুলতে পারে বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতি সামনে এনে দিয়েছে আরও বড় এক প্রশ্ন—আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কি সত্যিই সমতাভিত্তিক মাঠে খেলা হচ্ছে? নাকি কিছু প্রভাবশালী শক্তির ছায়া ছড়িয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠেও?
যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে সেটি হবে একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার জন্য চরম লজ্জার, যারা মুখে সাম্যের কথা বললেও বাস্তবে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ—একজন স্বেচ্ছাচারী নেতৃত্বের ছায়ায় থেকে।
পদত্যাগ করবেন না বিসিবি সভাপতি ফারুক
বৃষ্টিতে মাঠে গড়ায়নি ফাইনাল, টসভাগ্যে কুমিল্লার মডার্ন হাই স্কুল চ্যাম্পিয়ন