আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বিশ্বমানের আধুনিক কারখানা স্থাপনের জন্য আলাদা শিল্পপার্ক বা শিল্পাঞ্চলের দাবি জানিয়েছেন হালকা প্রকৌশল খাতের উদ্যোক্তারা। এর জন্য নীতিগত সহায়তা, কর ও ভ্যাটের সুষম হার এবং জমি দিয়ে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে বাংলাদেশ হালকা প্রকৌশল এক্সপো ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা এ কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দুদিনের এই এক্সপো ৩০ মে পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মো. মাহবুবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশকে প্রকৌশল পণ্য এবং প্রযুক্তি রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই পরিবর্তনে স্থানীয় হালকা প্রকৌশল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারণ ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে এ শিল্পের বড় উন্নতি সম্ভব। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। ছয় বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি থাকায় বাংলাদেশকে এখন বিষয়টি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাণিজ্য সচিব বলেন, হালকা প্রকৌশল খাতের যে সম্ভাবনা সেটা কাজে লাগাতে নীতিগত সহায়তা দরকার। যদিও এই শিল্পের জন্য পৃথক জমি বরাদ্দ করা কঠিন, তারপরও আমরা এটি বিবেচনা করব। সেই হিসেবে এ খাতের জন্য একটি পৃথক অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। উদ্যোক্তারা জানান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের বৈশ্বিক বাজার এখন ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অথচ রপ্তানি অনেক কম। এ সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে রপ্তানিতে এটাকে কীভাবে তৈরি পোশাকের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানো যায়, সে সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের কাজ থেকে ধারণা চান বাণিজ্য সচিব।
মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, ভিয়েতনামের রপ্তানি আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি পণ্য থেকে আসে, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত সম্পূর্ণ বিপরীত। বিশ্বব্যাংকের এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের সিনিয়র বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ এবং টিম লিডার হোসনে ফেরদৌস সুমি বলেছেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে অবশ্যই বিশ্বব্যাপী পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক দামের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এ খাতে উদ্ভাবন এবং বৈচিত্র্যের সুযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের উচিত এগুলোকে কাজে লাগানো।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক হাফিজুর রহমান বলেন, এ খাতটি একটি গেমচেঞ্জার হতে পারে। তবে রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে গেছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা মূলধনের ঘাটতিতে রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাদের সংযোগ অনেকটাই সীমিত। তিনি আরও বলেন, বিডার রোডম্যাপ অনুসারে, এ খাতের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সরকারের উচিত শুল্ক এবং কর সম্পর্কিত বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা।
প্রকল্প পরিচালক আবদুর রহিম খান বলেন, এ খাতের নীতি এবং সমন্বয়ের কিছু সমস্যা রয়েছে, যা সমাধান করা প্রয়োজন। আমরা যদি শুল্ক এবং নীতিসম্পর্কিত বাধাগুলো দূর করতে পারি, তাহলে এ খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
দুদিনব্যাপী এ মেলায় ২৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। স্থানীয় প্রকৌশলপণ্য, পরিষেবা এবং প্রযুক্তির প্রচারে এই এক্সপো উদ্যোক্তা, ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্বন্ধে সব পক্ষকে ধারণা প্রদান করবে। তাছাড়া দেশীয় প্রকৌশল শিল্পের উদ্যোক্তারা এ খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য নীতিনির্ধারক এবং গণমাধ্যমের সামনে বিভিন্ন নীতি প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন।
