কাজে আসছে না শতকোটির সড়ক

আপডেট : ৩০ মে ২০২৫, ০৬:৫৯ এএম

পাবনা থেকে ঢাকার দূরত্ব যমুনা সেতু দিয়ে সড়কপথে ২৩৩ কিলোমিটার এবং কাজীরহাট-আরিচা ফেরি পথে ১৪৭ কিলোমিটার। ফেরিতে ১৫-১৬ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে, ফলে উভয় পথেই যাতায়াতে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা লাগে। তবে কাজীরহাট থেকে ৮ কিলোমিটার ভাটিতে খাসচর থেকে আরিচার দূরত্ব মাত্র ৪.৫ কিলোমিটার। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নৌপথের দূরত্ব কমিয়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধেরহাট-খয়েরচর জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ শুরু করে সড়ক বিভাগ। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কপথে ৮৬ কিলোমিটার এবং নৌপথে ১১ কিলোমিটার দূরত্ব কমানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের দুর্নীতি, নি¤œমানের নির্মাণকাজ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়। ফলে ৯ বছরেও কাজীরহাট ফেরিঘাট খয়েরচরে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে ঢাকাগামী যাত্রীরা আগের মতোই দীর্ঘ সময় এবং দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছেন।

২০১৮ সালে পাবনার আমিনপুর থানার বাঁধেরহাট থেকে ঢালারচরের রাখালগাছি পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। উদ্দেশ্য ছিল কাজীরহাট ফেরিঘাটকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার খয়েরচরে সরিয়ে পাবনাসহ উত্তর ও দক্ষিণের ১০ জেলার সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব কমানো। কিন্তু ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়ক ঠিকাদারের নি¤œমানের কাজের কারণে উদ্বোধনের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পিচ উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়, ফলে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়ক বিভাগের তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ায় ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, বাঁধেরহাট থেকে রাখালগাছি পর্যন্ত সড়কের অধিকাংশ অংশে পিচ ও ইট নেই। রাস্তার দুই ধার ভেঙে সরু হয়ে গেছে। বড় যানবাহন তো দূরে থাক, রিকশা বা অটোবাইকও চলাচলের অনুপযোগী। খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, এমনকি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। ঢালারচরের পাইকান্দা গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী ও ভ্যানচালক রশিদ জানান, তাদের বলা হয়েছিল এই সড়ক ও ফেরিঘাট স্থানান্তরের ফলে এলাকার উন্নয়ন হবে। তারা জমি দিয়েছেন, কিন্তু ক্ষতিপূরণ পাননি। বৃষ্টির সময় সড়ক অচল হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মনির খান শিপন বলেন, ঠিকাদারের নি¤œমানের কাজের কারণে প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সড়ক প্রশস্তকরণের কথা বারবার শোনা গেলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বেড়া থেকে ঢাকাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম কাজীরহাট ফেরিঘাটে ফেরির অপেক্ষায় থেকে বলেন, ফেরিতে নদী পার হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাগে। খাসচর থেকে নদী পার হতে মাত্র ২০ মিনিট লাগলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেক কমত। তিনি কর্র্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ফেরিঘাট স্থানান্তরের দাবি জানান।

প্রথম ধাপে প্রকল্প ব্যর্থ হলেও সড়ক বিভাগ রাজবাড়ীর খাসচরে ফেরিঘাট স্থাপনের নতুন প্রস্তাব দেয়। এ জন্য ৯৭৮ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে, যার আওতায় পূর্বের ১১ কিলোমিটারসহ মোট ১৫.১০ কিলোমিটার প্রশস্ত সড়ক, ২টি ব্রিজ, ৭টি আরসিসি কালভার্ট নির্মাণ এবং ৩৬.৫৯ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাবনা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাদেকুর রহমান বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ইতিমধ্যে যাচাই সভা হয়েছে, এবং কর্র্তৃপক্ষের কিছু প্রশ্নের সমাধানসহ প্রকল্প প্রস্তাবনা পুনরায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত