আন্ডারওয়ার্ল্ডের ১২০৭ সন্ত্রাসীর খোঁজে পুলিশ

আপডেট : ৩১ মে ২০২৫, ০৪:৫৩ এএম

আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও মোল্লা মাসুদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের খোঁজে পুলিশ তৎপর হচ্ছে। এসব সন্ত্রাসী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে বলেও তথ্য রয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে সন্ত্রাসীদের নতুন করে একটি তালিকা করা হয়েছে। যাতে ১ হাজার ২০৭ জনের নাম উঠে এসেছে।

সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের খোঁজ করতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠি পেয়ে পুলিশের ইউনিটগুলো কাজ শুরু করে দিয়েছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ কর্মকর্তারা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিচ্ছেন। দেশের বাইরে থাকা সন্ত্রাসীদের বিষয়ে ইন্টারপোলে নতুন করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে অনেকের মধ্যে দেখা দিয়েছে গ্রেপ্তার আতঙ্ক। ঘাপটি মেরে থাকা সন্ত্রাসীরা বের হয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে। জামিনে বের হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে থেকে সব ধরনের কলকাঠি নাড়ছে বলেও তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সূত্র বলছে, কারাগারে থাকা সন্ত্রাসীরাও সহযোগীদের নানা বিষয়ে বার্তা দিচ্ছে। এমনকি সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ মিলে গুপ্তহত্যার পরিকল্পনাও নিয়েছিলেন। গুপ্তহত্যার তালিকায় ছিলেন আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। এসবের পেছনে কাজ করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। গোয়েন্দা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (অপারেশনস) রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা নানা কৌশল নিয়েছি। আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ অন্য অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করছি। সন্ত্রাসীদের বিষয়ে পুলিশের ইউনিটগুলোতে বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছে। জামিনে যেসব সন্ত্রাসী বা অপরাধী মুক্ত হয়েছে, তাদের ওপর আমরা নজরদারি রাখছি।’

আন্ডারওয়ার্ল্ড উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা : সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আন্ডারওয়ার্ল্ড উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। দেশের বাইরে থাকা সন্ত্রাসীরা নিজেদের সহযোগীদের মাধ্যমে নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। কারাগারে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের সহযোগীদের বার্তা দিচ্ছে। যারা বের হয়েছে তারাও নতুন মেরূকরণে নেমেছে। যে কারণে সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে পুলিশ সদর দপ্তর সবকটি ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিদের বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সদর দপ্তরে আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের বিষয়ে নতুন করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কারাগার কর্তৃপক্ষকেও হাজতি ও বন্দি সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামিনে মুক্ত হতে নানা চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। প্রথমে কারাগার থেকে মুক্ত হন কিলার আব্বাস। আরও মুক্ত হন সুইডেন আসলাম, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, হাজারীবাগ এলাকার সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন ও খোরশেদ আলম ওরফে রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু।

আগামী সংসদ নির্বাচন টার্গেট : সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আন্ডারওয়ার্ল্ড উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। পাশাপাশি গোপনে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা একে অন্যকে ঘায়েল করার পাঁয়তারা করছে। দেশের বাইরে থাকা সন্ত্রাসীরা অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এমনকি কারাগারে থাকা সন্ত্রাসীদের কেউ কেউ রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হতে চাচ্ছে। এসব তথ্য পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ-র‌্যাবসহ অন্য বাহিনী। গত মঙ্গলবার কুষ্টিয়া থেকে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদসহ চার সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। তাদের কাছ থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড বিষয়ে তথ্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দারা।

গুপ্তহত্যার টার্গেট সুব্রত বাইন ও মোল্লার : গ্রেপ্তারের পরই সরকারের একটি বিশেষ সংস্থা সুব্রত বাইনসহ চারজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রথমে আলাদাভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তথ্যগুলো যাচাই করতে সুব্রত ও মোল্লাকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গুপ্তহত্যা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা তাদের নানা পরিকল্পনার কথা জানান। এতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন নেতার নামও প্রকাশ করেন। গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, শুটার আরাফাত ও শরীফের কাছ থেকেও তথ্য পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগবিরোধীদের টার্গেট করার বিষয়ে তারা জানিয়েছেন। তবে তাদের তথ্যগুলো আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

ঢাকায় তিন খুনে বাইন-মোল্লার সংশ্লিষ্টতা : খুন, দখল, চাঁদাবাজি এবং হামলার ঘটনায় সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ ও বিকাশের নাম এসেছে। গত রবিবার রাতে বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় বিএনপি নেতা কামরুল আহসানকে (সাধন) গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকা-ে সুব্রতের নাম সামনে আসে। ১৯ এপ্রিল হাতিরঝিলে ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য আরিফ শিকদারকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পেছনেও সুব্রত বাইনের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। ১৩ মার্চ মগবাজারের ওয়্যারলেস রেলগেটের পাশে একটি ক্লাবঘরের ভেতরে কুপিয়ে ও মাথা থেঁতলে দেওয়া হয় ডিএনসিসির ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. রাজনকে। পরে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে ফেরেন তিনি। এ ঘটনায়ও সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদের সংশ্লিষ্টতা পায় পুলিশ।

বাইনের সহযোগীদের নানা তৎপরতা : পুলিশ সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া থেকে আটক হওয়া দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ পাঁচটি বিদেশি অস্ত্রসহ আটক হন। এর আগে রাজধানীর মগবাজারে যুবদল নেতা আরিফ হত্যাকান্ডের জড়িত সুব্রত বাইনের ফ্যাকচার গ্যাংয়ের প্রধান বিপুকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই ঘটনায় সুব্রত বাইনের ক্যাশিয়ার মন্টু পলাতক থাকলেও তার রাজত্বের হাল ধরেছেন সেকেন্ড ইন কমান্ড নাজমুল হক মাসুম ওরফে চান্দি মাসুম। তার অধীন মগবাজার বাটাগলির ঘরজামাই সুমন, শ্যামলী, হাতকাটা সুমন, বাপ্পি, সাজ, শরিফ এলাকার বিভিন্ন চাঁদাবাজি, মাদক ও ফ্ল্যাটে অবৈধ দেহব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ওরফে ‘চিটার জিসান’ এরই মধ্যে তার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন গুলশান ও বাড্ডা এলাকায়। সাম্প্রতিককালে গুলশানে বিএনপি নেতাকে গুলি করে খুনের ঘটনায় রয়েছে জিসানের ইন্ধন।

গুলশানের স্বপন ডিশব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিতেই জিসান এ হত্যাকা-ের পরিকল্পনার ছক এঁকে দেন বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। এরই মধ্যে দেশ থেকে গা-ঢাকা দিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন কিলার আব্বাস ও তাজ। প্রথমে নেপালের কাঠমান্ডুতে একটি ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করতে যান তাজ। দুবাই থেকে যার পুরো বন্দোবস্ত করে দেন কিলার আব্বাস। পরে মে মাসের মাঝামাঝিতে দুবাই চলে যান শীর্ষ সন্ত্রাসী তাজ। আবার দেশে বসে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে জামিনে বের হওয়া আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী। নিজেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে সরিয়ে রাখার নাটক সাজালেও কলাবাগান ক্লাবে বসে সুব্রত বাইনের সঙ্গে রফাদফা সেরে নেন এপ্রিলের শেষদিকে। যেখানে কয়েকটি অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনার পরিকল্পনাসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কে কে যোগ দিচ্ছে তার গ্রুপে, তা নিয়ে আলোচনা চলে। ওই সন্ত্রাসী তার স্ত্রীকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর করতে নিয়েছে পরিকল্পনা। কিলার আব্বাস, টিটন, তাজ, রাসু, পিচ্চি হেলাল, ইমনসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ ওই সন্ত্রাসীর হয়ে একত্রে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করবে। তাদের সার্বিক সহায়তা করবেন আগস্টে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়া শীর্ষ এক ব্যবসায়ী নেতা।

ভারতীয় তরুণীকে বিয়ে মোল্লার : সূত্র জানায়, পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ ঝালকাঠির মহাদেবপুরের অতি সাধারণ একটি পরিবারের সদস্য আমজাদ হোসেনের ছেলে। ছাত্রজীবন থেকেই জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। ছাত্রসংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হয়ে হেরে যাওয়ার পর দেহরক্ষী হয়ে যান এক রাজনৈতিক নেতার। বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে সেই রাজনৈতিক দলেও জায়গা না পেয়ে নাম লেখান সন্ত্রাসী খাতায়। ছাত্রজীবনে যার প্রিয় নেশা ছিল গাঁজা সেবন। বন্ধুমহলে কলকি মাসুদ নামের ছেলেটা হয়ে ওঠেন সুব্রত বাইনের প্রধান হাতিয়ার। মোল্লা মাসুদ সুব্রত বাইনের কর্মী হয়ে খুন করেন দুই ডজনের বেশি মানুষকে। ২০০৪ সালে মোল্লা মাসুদ প্রাণের ভয়ে পালিয়ে পাড়ি জমান ভারতে। মুর্শিদাবাদে ভারতীয় নাগরিক রিজিয়া সুলতানাকে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন সেখানে। পশ্চিমবঙ্গে সুব্রত বাইন জাল নোটের কারবারে জড়িয়ে পড়েন।

ফাইভ স্টার ও সেভেন স্টার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ : পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকে ঢাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ যে কজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর হাতে ছিল, তাদের অন্যতম সুব্রত বাইন। তার সেভেন স্টার নামক সন্ত্রাসী গ্রুপে মোল্লা মাসুদও ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ ছিল যুবলীগ নেতা লিয়াকত ও মুরগি মিলনের নেতৃত্বাধীন ফাইভ স্টার গ্রুপ। গণপূর্ত ও নগর ভবনের টেন্ডারবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়ই দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হতো। সেভেন স্টার গ্রুপের হাতে খুন হয় মুরগি মিলন। ১৯৯১ সালে আগারগাঁও এলাকায় জাসদ ছাত্রলীগ নেতা মুরাদকে হত্যার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসী হিসেবে সুব্রত বাইনের যাত্রা শুরু। সে যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত আসামি। সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ ২০০৪ সালের দিকে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারত পালিয়ে যায়। ২০০৮ সালের ১৩ অক্টোবর সুব্রত বাইন অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন কলকাতায়। তার বিরুদ্ধে কলকাতায় অস্ত্র ও অনুপ্রবেশের মামলা হয়। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও গা-ঢাকা দেন সুব্রত। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নেপাল সীমান্তের কাকরভিটা শহরে ঢুকে পড়েন। পরে নেপালের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর সুড়ঙ্গ খুঁড়ে নেপালের কারাগার থেকে পালিয়ে ফের ভারতে চলে আসেন। ওই বছরের ২৭ নভেম্বর কলকাতার বউবাজারের একটি বাসা থেকে সুব্রতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখানে ফতেহ আলী নাম নিয়ে ছদ্মবেশে অবস্থান করছিলেন। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) মুর্শিদাবাদ থেকে মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করে। হত্যা, নির্যাতন ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের এক ডজন মামলার অভিযুক্ত আসামি এই মোল্লা মাসুদ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে ১১ জন বিদেশে আত্মগোপন করে আছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা আছে। ২০০৩ সালে মালিবাগের সানরাইজ হোটেলে ডিবি পুলিশের দুই সদস্যকে হত্যার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান দুবাইয়ে আত্মগোপনে থেকে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করছে। তার সহযোগী জাফর আহমেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক ভারতে পালিয়ে আছে। তার ইশারাতেই দেশে দখলবাজি, টেন্ডারবাণিজ্য ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এখনো আছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

১২০৭ জনের বিষয়ে পুলিশের বিশেষ চিঠি : পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের তালিকা করা হয়েছে। বড়-ছোট মিলিয়ে ১ হাজার ২০৭ জনকে খুঁজছি আমরা। তাদের বিষয়ে বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বেশ কিছু বার্তা দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের পুরো প্রোফাইল দেওয়া আছে। কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তারা মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের সাঙ্গোপাঙ্গদের তালিকা করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে চিঠি এসেছে। আমরা অন্য বাহিনীর সহায়তা নিচ্ছি।

জামিনে মুক্ত হওয়া সন্ত্রাসীদের অবস্থা : পুলিশ সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন চিকিৎসার কথা বলে মালয়েশিয়া পালিয়ে গেছেন। মালয়েশিয়া থেকেই রাজধানীর ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড ও হাজারীবাগ এলাকায় নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন। পিচ্চি হেলাল দেশেই আছেন। মোহাম্মদপুর ও আশপাশ এলাকায় তার গ্রুপের সদস্যরা সক্রিয় থেকে নানা অপকর্ম করছেন। ইতিমধ্যে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও খুনোখুনিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ইমন, পিচ্চি হেলাল এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জিডি হয়েছে। ইমনের সেকেন্ড ইন কমান্ড জাহিদ হোসেন ওরফে চাচা জাহিদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে আগের মতোই অপকর্ম করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত