স্লিপ অ্যাপনিয়া কেন হয় ও করণীয়

আপডেট : ০১ জুন ২০২৫, ০৭:৪০ এএম

সুস্থ-সবল একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের উপর্যুপরি ব্যাঘাত ঘটায় স্লিপ অ্যাপনিয়া। যেকোনো মানুষের সুস্থ জীবনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। যাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে, তাদের বারবার রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা বিষন্ন লাগে। সব কাজেই বিরক্ত লাগতে পারে। ঘুমানোর সময় খুব বেশি নাক ডাকা এ রোগের অন্যতম লক্ষণ। আক্রান্ত ব্যক্তির রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়, আর সারা দিন ঘুম ঘুম ভাব হয়। দিনের বেলা কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না।

কেন হয় : অনেক ক্ষেত্রে রোগটির কারণ অজানা থাকতে পারে। ঘুমানোর সময় আমাদের শ্বাসনালি শিথিল হয়ে যায়, তবে যাদের এই শিথিলতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘটে, তাদের ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন ঘটতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত ওজন এ রোগের অন্যতম কারণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাক-কান-গলার গঠনগত কিছু ত্রুটির কারণেও এ রোগ হতে পারে। আবার মস্তিষ্কের যে অংশ ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে, সেই অংশে কোনো সমস্যা হলেও স্লিপ অ্যাপনিয়া হতে পারে।

করণীয় : আমাদের উচ্চতার সঙ্গে ওজনের অনুপাত বা বডিমাস ইনডেক্স, হতে হবে ২৫-এর মতো। ঘাড়ের মাপ যেন ৪২ সেন্টিমিটারের বেশি না হয়। মাথার গঠনে কোনো বিশেষত্ব আছে কি না। আর এসব জানতে আপনাকে এক্স-রে করতে হবে। আর শ্বাসতন্ত্রের বাধা জানতে এন্ডোস্কোপির সাহায্য নিতে হবে। পলিসমনোগ্রাফি পরীক্ষা করে ইইজি বা মস্তিষ্ক তরঙ্গ নিরীক্ষণ, ইসিজি, ইলেকট্রোঅকুলোগ্রাম, ইলেকট্রোমায়োগ্রাফি, পালস অক্সিমেট্রি বা অক্সিজেনের মাত্রা নির্ণয়, রক্তচাপ, নিঃশ্বাসের গতি, খাদ্যনালিতে চাপ এগুলো জানতে বিশেষ সুবিধাযুক্ত স্লিপ ল্যাবের সেবা নেওয়া প্রয়োজন।

নাকের পর্দায় সংস্কার, টনসিল অপসারণ, টনসিল-তালু-আলজিভের অপারেশন বা চোয়ালের অপারেশন লাগতে পারে। শ্বাসনালিতে বিকল্প নিঃশ্বাস পথ তৈরি করতে হতে পারে অবস্থা গুরুতর পর্যায়ে চলে গেলে।

সিøপ অ্যাপনিয়া চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের ওপর। নাক, কান ও গলার কোনো গঠনগত ত্রুটি থেকে থাকলে সেটির পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার (রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি) করিয়ে নিলে সিøপ অ্যাপনিয়া সেরে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত