পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুমিল্লায় জমতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলার ১৭টি উপজেলায় এবার বসছে ৪০১টি হাট, যার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে রয়েছে আটটি বড় হাট। হাটে এবার দেশি গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের প্রাধান্য রয়েছে। পশুর দান নিয়ে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিক্রেতারা বলছেন, লালনপালনের খরচ বেশি হয়েছে এবার। তাই কম দামে পশু ছাড়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, দাম কিছুটা বাড়া অস্বাভাবিক না, তবে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫-২০ শতাংশ বেশি দাম চাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলার চাহিদা ২ লাখ ৩৬ হাজার পশু হলেও প্রস্তুত রয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৭০টি পশু। এর মধ্যে ১ লাখ ৯১ হাজার গরু, ৫৬ হাজার ৯৪০ ছাগল, ১১ হাজার ৮০৫ ভেড়া, ৬০৮ মহিষ এবং ৩১৭টি অন্যান্য পশু।
খামারিরা জানান, দেশি জাতের গরু ও ছাগলের চাহিদা বেশি। দাউদকান্দির খামারি মো. ফজলুল হক বলেন, ‘এবার মাঝারি ও বড় আকারের গরু বেশি এসেছে। দেশি গরুর গুণগত মান ভালো, তবে খাদ্যের দাম বাড়ায় লালনপালনের খরচ বেড়েছে।’
খামারিরা জানান, গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বুড়িচংয়ের খামারি শাহাদাত মিয়া বলেন, ‘তিনটি গরু প্রস্তুত করেছি। খরচ বেশি হওয়ায় লাভ ছাড়া বিক্রি সম্ভব নয়।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতারা মানসম্পন্ন পশু চাইলেও দাম নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। চৌদ্দগ্রামের ব্যবসায়ী রফিকুল হক জানান, ‘বাড়িতে লালিত গরুর চাহিদা বেশি, তবে ক্রেতারা দাম কমাতে চান।’
ক্রেতারা দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কুমিল্লা সদরের আব্দুল মান্নান বলেন, ‘মাঝারি গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। গত বছরের তুলনায় দাম ১৫-২০ শতাংশ বেশি।’ তবে কেউ কেউ মনে করেন, গুণগত মান বিবেচনায় দাম যুক্তিসংগত।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের হিসাবে, গড়ে প্রতিটি গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা এবং ছাগলের দাম ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। সে হিসেবে এবার কুমিল্লার হাটে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হতে পারে।
হাটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি হাটে বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্থান, মোবাইল ক্লিনিং টিম এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে। জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য অপসারণে বিশেষ টিম কাজ করবে। হাট শেষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা পরিষ্কার করা হবে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার জানান, ৩৬ হাজার খামারি পশু প্রস্তুত করেছেন। প্রাকৃতিক খাবারে গরু পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন খামারিরা। যে কারণে খামারের গরুর প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া খামারি ও কৃষকপর্যায়ে যারা গরু এবং ছাগল পালন করছেন, তারা সবাই প্রাকৃতিক খাবারের ওপর নির্ভরশীল।
চন্দন কুমার জানান, প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম, জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন, ব্যাংক বুথ ও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি কোরবানির গরুর হাটে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ভেটেরিনারি চিকিৎসক দল থাকবে। সেখানে যদি কোনো গরুকে কৃত্রিম খাবার দিয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে, এ রকম মনে হয়, তাহলে সেই পশু বিক্রয় অনুপযোগী বলে ঘোষণা করা হবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন জানান, চাঁদাবাজি ও হয়রানি রোধে কন্ট্রোল রুম, গোয়েন্দা নজরদারি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, সীমান্তে জিরো টলারেন্স নীতিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভারতীয় গরু ঢোকার কোনো সুযোগ নেই।’
