ঝিনাইদহের ৫ যুবককে কম্বোডিয়ায় বিক্রি, সন্তানদের ফিরে পেতে মায়েদের আহাজারি

আপডেট : ০১ জুন ২০২৫, ০৪:২৮ পিএম

ঝিনাইদহে আদম পাচারকারী ফজলুল করিম ফয়জুল ও তার ছেলে ফয়সাল আহম্মেদসহ চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। আর্থিক সংগতি হারিয়ে পরিবার গুলোতে চলছে কষ্ট আর শোকের মাতম। আদম পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও তারা রয়েছে বহাল তবিয়তে।  

রবিবার (১ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন হালিমা খাতুন নামে এক অসহায় নারী। তার ছেলে শাহীনকে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কম্বোডিয়ায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। শাহীনের মতো আরো ৮ যুবককে চক্রটি প্রতিশ্রুত দেশে না পাঠিয়ে কম্বোডিয়া পাঠিয়ে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন।

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শাখারীদহ গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আলতাফ হোসেনের স্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী গ্রামের আলী আহম্মদের ছেলে ফজলুল করিম ফয়জুল, তার ছেলে ফয়সাল আহমেদ, স্ত্রী জাহানারা খাতুন ও পুত্রবধূ তারানা হক রথী (২০) বিদেশ পাঠানোর নামে এলাকার বহু মানুষের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হালিমা খাতুন দাবী করেন, তার ছেলে শাহীন ছাড়াও নাথকুণ্ডু গ্রামের মো. আকরাম আলী, একই গ্রামের সিফাতুল্লা, হলিধানী গ্রামের মো. রাহুল আহমেদ, প্রতাপপুর গ্রামের রানা মিয়া, সদর উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের সবুজ, ঝিনাইদহ পৌর এলাকার কলাবাগান পাড়ার নাজিব ও বেড়াদি গ্রামের আব্দুল গফফারের কাছ থেকে মাথাপ্রতি ৭ লাখ টাকা করে মোট ৫৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এরমধ্যে সবুজ, নাজিব ও আব্দুল গাফফার নেপাল বিমান বন্দর থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।  

প্রতারণার শিকার নাজিব ও সবুজ নামে দুই যুবক জানান, থাইল্যান্ডে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেওয়ার জন্য ফজলুল করিম ফয়জুলসহ আসামিগণ তাদের প্রলোভন দেখায়। তাদের কথা বিশ্বাস করে ঝিনাইদহ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জনপ্রতি সাত লাখ টাকা করে দিয়েছেন। 

টাকা নেওয়ার পর তাদের থাইল্যান্ডে না পাঠিয়ে কম্বোডিয়ার স্ক্যাম্প কোম্পানীতে ১৮ ঘণ্টা শ্রমের চুক্তিতে বিক্রি করে দেন। ফলে সেখানে তারা নিদারুন কষ্টে আছেন। মাসে কোন টাকা পাঠাতে পারছেন না। তাই ব্যাংক ঋণ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে, যে বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো তো দূরের কথা এখন তারা জীবন নিয়ে ফিরতে পারবে কিনা তা নিয়ে পরিবারে এখন দুশ্চিন্তাই রয়েছে ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত