১৯৬৯ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের অন্যতম পথিকৃৎ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। তার জন্ম ১৯১১ সালে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া গ্রামে। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে পিরোজপুরের মহকুমা হাকিম আদালতের সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে পরিচয় ঘটার সুযোগে এই চাকরিও ছেড়ে দেন, চলে যান রাজনীতিতে। রাজনৈতিক প্রচারপত্রের প্রয়োজনীয়তা থেকে তিনি ও আবুল মনসুর আহমদ ১৯৪৬ সালে বের করেন ‘দৈনিক ইত্তেহাদ’। দেশভাগের পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হলে দলের মুখপত্র হিসেবে আবির্ভাব ঘটে ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকার এবং আবদুল হামিদ খান ভাসানী এর সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে মানিক মিয়া ১৯৫১ সালে ইত্তেফাক সম্পাদকের দায়িত্ব নেন এবং তার সম্পাদনায়ই ১৯৫৩ সালে পত্রিকাটি দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯৫৯ সালে তাকে জেলে যেতে হয়। ১৯৬৩ সালে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন, ইত্তেফাকও নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালে পত্রিকাটির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। আমৃত্যু আপসহীন, জনদরদি মানিক মিয়া মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আজীবন নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন।
×
