উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বিপদজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের চর ও নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।
জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে বাদাম, ভুট্টা, পাট ও ধানের মাঠ পানির নিচে চলে গেছে। কোথাও কোথাও ফসল পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ফসল ঘরে তোলার সময় হলেও হঠাৎ পানি বাড়ায় তারা অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমি থেকে ফসল উদ্ধারের চেষ্টা করছেন, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হচ্ছে না।
মহিষখোচার গোবর্ধন এলাকার কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, আমার দুই একর জমিতে ভুট্টা ছিল। কাটার সময় হয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ পানি এসে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। এখন আর কিছুই করার নাই।
আরেক কৃষক হাসান আলী জানান, আর ১৫-২০ দিন সময় পেলেই বেশিরভাগ ফসল ঘরে তুলতে পারতাম। হঠাৎ বন্যায় তাই বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছি।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এবারের অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হঠাৎ এই বন্যা হয়েছে। আমরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়ে বোর্ডের লালমনিরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর প্রতিরক্ষা কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী তিন দিন তিস্তায় পানি আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
