গত মে মাসে দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কমপক্ষে ১ হাজার ১৪৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। একই মাসে বিএসএসএফ’র গুলিতে ২ জন বাংলাদেশি নিহত, ৫ জন আহত ও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
সোমবার সংগঠনটি তাদের মাসিক পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, মে মাসে সাংবাদিকদের উপর হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ মাসে অন্তত ৩১টি ঘটনায় কমপক্ষে ৯১ জন সাংবাদিক নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ৩৩ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৭ জন ও গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩ জন। এছাড়াও ৭টি মামলায় ৪৮ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এইচআরএসএস’র প্রতিবেদন বলছে, মে মাসে কমপক্ষে ৬০টি ‘রাজনৈতিক সহিংসতার’ ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৮১ জন। আধিপত্য বিস্তার, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন স্থাপনা দখলকেন্দ্রিক অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতার ২৮টি ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। এতে নিহত হয়েছেন ৫ জন। তবে, মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার সংখ্যা এপ্রিল মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংস্থার হিসেবে মে মাসে কমপক্ষে ১৩৬ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৫৫ জন, যাদের মধ্যে ২৫ জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। ১৪ জন নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষনের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩ জনকে। ৩৩ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন যার মধ্যে ২২ জন জন। অন্যদিকে, এই মাসে ৮৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যাদের মধ্যে ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৬৬ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
গত মাসে যশোরের অভয়নগরে মতুয়া সম্প্রদায়ের ১৮টি ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এইচআরএসএস বলে, নওয়াপাড়া পৌর কৃষক দলের সভাপতি এস এম তরিকুল ইসলামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর সন্দেহের বশে যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডগরমশিয়াহাটী গ্রামের বেড়েধাপাড়ায় ভাঙচুর, লুটপাট চালিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের ১৩টি পরিবারের ১৮টি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
একই মাসে গণপিটুনির ২৬টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। এছাড়া ১৬ টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৭ জন নিহত ও কমপক্ষে ১৪৪ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে এইচআরএসএস। এ মাসে সারাদেশে কারাগারে কমপক্ষে ৫ জন আসামী মারা গিয়েছেন। ৫ জনের মধ্যে ২ জন কয়েদী ও ৩ জন হাজতি। এ ছাড়া পুলিশের ভয়ে পালাতে গিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এইচআরএসএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে কমপক্ষে ২২টি মামলা হয়েছে। এ সকল মামলায় ২ হাজার ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩ হাজার ৫৯৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। এ মাসে রাজনৈতিক মামলায় কমপক্ষে ২৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী অন্তত ২৩৪ জন।
এছাড়া এ মাসে সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১১ হাজার ৬৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
