ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নাকোবাড়ীয়া গ্রামে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ইউনুছ আলী (৬২) নামে আরো একজন চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা গেছেন। বুধবার (৪ জুন) সকালে যশোরের ইবনেসিনা প্রাইভেট হাসপাতালে তিনি মারা যান।
স্থানীয়রা জানায়, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জামাল ইউনিয়নের বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিএনপির অপর পক্ষ আরিফ, লিটন, বুলু ও আশরাফের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিলো।
এরই জেরে রবিবার সকালে জামাল ইউনিয়নের নাকোবাড়িয়া গ্রামে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে নাকোবাড়িয়া গ্রামের মহব্বত আলী ও তার ভাই ইউনুছ আলীসহ ৫ জন গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মহব্বত হোসেনকে ফরিদপুরে রেফার্ড করা হলে ওই দিন দুপুরে তিনি মারা যান। তার ভাই ইউনুস আলী এরপর থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তিনিও মারা যান। নিহতরা উপজেলার নাকোবাড়িয়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
এদিকে মহব্বত আলী হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এক নম্বর আসামি করা হয়েছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কোলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ডাক্তার নুরুল ইসলামকে।
মামলার আসামিরা সবাই কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশি সাইফুল ইসলাম ফিরোজের অনুসারি বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সোমবার রাতে মামলা দায়ের করা হলেও নানা নাটকীতার পর মঙ্গলবার বিকালে মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করে থানা পুলিশ।
মামলা রেকর্ডের একদিন পর বুধবার সকালে ইউনুছ আলী নামে আরো এক বিএনপি কর্মী নিহত হওয়ায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ জানান, যারা মারা গেছেন তারা দুজন আপন ভাই। তারা সবাই বিএনপির সক্রিয় কর্মী। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ ৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জানান, নাকোবাড়িয়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আধিপত্য নিয়ে গোলযোগ হয়। এই ঘটনায় দুইজন মারা যান। আমি এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করি।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার নিহত মহব্বত আলীর বড় ভাই ইউনুছ আলী মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংঘর্ষের পর থেকে গ্রামে ৩৫/৪০টি বাড়িতে ভাংচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সে সময় ঘরের আসবাবপত্র, ধান চাল ও গোয়াল ঘর থেকে গরু ছাগল নিয়ে যায় ।
ঈদের দিন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নতুন পাঁচ দেশ নির্বাচিত