গা শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ভদ্রলোকরা ঘটিয়েছে

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৫, ০৭:৪৫ এএম

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “একেকটি ঘটনা কতটা ভয়াবহ! আমাদের সমাজের তথাকথিত ‘ভদ্রলোকেরা’, আমাদেরই আত্মীয়-পরিজনরা এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছেন। এগুলো গা শিউরে ওঠার মতো।”

গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন প্রধান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিশন সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ছিলেন নূর খান, সাজ্জাদ হোসেন এবং নাবিলা ইদ্রিস।

প্রতিবেদন গ্রহণের সময় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আপনারা যে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন, তার ভিত্তিতে একটি হরর মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করা উচিত। তিন ফিট বাই তিন ফিটের খুপড়িতে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বন্দি থাকার নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেদনটি ওয়েবসাইটে এবং বই আকারে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, বৈশ্বিকভাবেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।’

প্রধান উপদেষ্টা কমিশন সদস্যদের নির্দেশ দেন, প্রতিবেদনের আশু করণীয়গুলো চিহ্নিত করে কোনটি কোন মন্ত্রণালয়ের আওতায় পড়ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে। এতে সরকার দ্রুত কাজ শুরু করতে পারবে।

কমিশন সদস্যরা জানান, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে ১ হাজার ৮৫০টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৩৫০টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, অভিযোগের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। গুমের শিকারদের মধ্যে এখনো ৩০০-এর বেশি ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। কমিশনপ্রধান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার যেন অন্তত ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করতে পারে, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হোক।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান আইনে কেউ সাত বছর নিখোঁজ থাকলে তাকে মৃত ঘোষণার বিধান রয়েছে। এই সময়সীমা পাঁচ বছরে নামিয়ে আনতে আইন সংশোধনের সুপারিশ করছি।’ প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কমিশনকে পরামর্শ দেন।

একজন কমিশন সদস্য বলেন, ‘ঘটনাগুলো এতটাই ভয়াবহ যে জড়িত অনেক কর্মকর্তা ও অন্যরা অনুশোচনায় ভুগছেন। তারা আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্টা হিসেবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দুজন অফিসার লিখিতভাবে পরিত্রাণ চেয়ে গণভবনে চিঠি লিখেছিলেন। তৎকালীন সেনাপ্রধানও জনসম্মুখে এই চিঠির কথা স্বীকার করেছেন।’

কমিশন সদস্যদের প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা ভয়-ভীতি, হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছেন। এ দেশের মানুষের জন্য আপনারা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। ভবিষ্যতে যারা মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করবে, তাদের জন্য আপনারা পথপ্রদর্শক।’

এ সময় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত