ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৫, ১০:৫৭ এএম

ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আজ শনিবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৮তম ঈদুল আজহার জামাত। এ বছরও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে আগত হাজারো মুসল্লি অংশ নেন এই বৃহত্তম ঈদ জামাতে। নামাজে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

ঈদের জামাতে অংশ নিতে সকাল ৭টা থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন শোলাকিয়ায়। ময়দানে প্রবেশের আগে মুসল্লিদেরকে পার হতে হয়েছে একাধিক নিরাপত্তা চৌকি। পুরান থানা মোড়, সতাল মোড়, গাছ বাজার মোড়, আজিম উদ্দিন স্কুল মোড়, নীলগঞ্জ মোড় ও কানিকাটা মোড়ে ছিল পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি।

শোলাকিয়া ঈদগাহে ছিল চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি প্রবেশপথে স্থাপন করা হয়েছিল আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর। মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করে ময়দানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকার ওপর নজরদারি চালানো হয়।

ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহা. কাজেম উদ্দীন জানান, “শোলাকিয়ার পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকা আমরা ড্রোন ক্যামেরায় নজরদারির আওতায় এনেছি। প্রতিটি গেটে আর্চওয়ের পাশাপাশি ছিল মেটাল ডিটেক্টর। নিরাপত্তার জন্য মাঠে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন ছিল এবং আশপাশের সব স্থাপনাতেও পুলিশ ডিউটিতে ছিল। নিরাপত্তা নজরদারিতে ব্যবহার করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। এখন শুধু আশা করছি—সব মুসল্লি সুস্থভাবে বাড়ি ফিরবেন।”

জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান জানান, “দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত অজুর পানি, সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত ওয়াশরুমের পাশাপাশি তৈরি ছিল মেডিকেল ক্যাম্প, যাতে কেউ অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিসও দায়িত্ব পালন করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল পর্যাপ্ত পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্য এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ঈদের জামাতে অংশ নিতে এই ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ এবং ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচল করেছে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত