স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন

পুলিশের কেউ মামলা বাণিজ্য ও দুর্নীতিতে জড়ালে ছাড় নয়

আপডেট : ১১ জুন ২০২৫, ০৪:২৭ এএম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব) বলেছেন, পুলিশের কেউ মামলা বাণিজ্যে-দুর্নীতিতে জড়িত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিভিন্ন পদমর্যাদার ৮৪ জনকে আমরা এটাচ করে রেখেছি। ইতিমধ্যে আমি ৩০-৪০ জনকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। যদি আরও ৩০-৪০ জনকে বাড়ি পাঠাতে হয়, একটুও কুণ্ঠিত হবো না। যদি কোনো রকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ জন্য একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।  আগে বলা হতো জিডি এবং মামলা পুলিশ নিতে চায় না। এজন্য আমরা ইতিমধ্যে মামলার গ্রহণ প্রক্রিয়া অনলাইনে করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখন জিডি ঘরে বসেই করা যায়। ফলে মামলা করার জন্য এখন আর মানুষকে থানায় যেতে হবে না, তাই হয়রানি পোহাতে হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা বলেন রিমান্ডের নিয়ে নির্যাতনের কথা। এখন থেকে জিজ্ঞাসা করার জন্য আমরা কাচের মতো ঘর করে দেব। অন্যরা দেখতে পারবে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে কি না।

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি। এটা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। এটা যদি আমরা কোনো অবস্থায় কন্ট্রোলের ভেতরে আনতে পারতাম, তাহলে কিন্তু দেশ অনেক আগাইয়া যাইত। এজন্য আমি সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই। আপনারা লোকজনকে সচেতন করেন। আপনারা যদি সত্য কথা লেখেন, তাহলে অনেক কিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা যায় কি না, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আপনারা জানেন, আগে ১০-১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা অসংখ্য মানুষের নামে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করত। এবার হইছে কী? আপনারাই ১০-১৫ জনের নাম দিছেন, ২০০-২৫০ বেনামি লোক আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এজন্য মামলার তদন্ত দেরি হচ্ছে। এসব মামলায় যেমন দোষী লোকজন আছে, মোটামুটি নির্দোষ অনেক মানুষ রয়েছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, এজন্য আমরা দেখব, যারা দোষী তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসব আর যারা নির্দোষ সে যাতে কোনোমতে সাজা না পায় সে ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা গাছা থানা ও ব্যারাক পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানসহ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানা এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত