সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে অবৈধ ড্রেজার বন্ধে সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ ড্রেজার পরিচালনায় জেলা প্রশাসক জনস্বার্থবিরোধী অনুমতি দিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (১১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকায় পদ্মা সেতু কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন এসে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, নদী ভাঙনের কারণ নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও অবৈধ বালু উত্তোলন। ড্রেজার চালানোর ফলে পদ্মা নদীর আশপাশের এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। ড্রেজারগুলোকে আটকাতে হবে এবং দখল ও জব্দ করে মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা বন্ধ করা না গেলে বাঁধ দিলেও সমস্যা সমাধানে আসবে না। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ডকে নিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদী ভাঙন রোধ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বরে নাওডোবা এলাকায় ১০০ মিটার পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড' বাঁধ ধসে যায়। যার পুনর্নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যয় করে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সেই সংস্কার করা এলাকার কিছু অংশসহ দুটি স্থানে প্রায় ২০০ মিটার পদ্মা নদীতে ধসে পড়েছে। এ ছাড়া ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে শরীয়তপুরের জজিরার নাওডোবা-পালেরচর সড়ক, মহর আলী মাদবরবান্দি, আলম খাঁরকান্দি, ওছিম উদ্দিন মাদবরকান্দি এবং কালাই মোড়লকান্দি গ্রামের অন্তত পাঁচ শতাধিক বসত বাড়ি। তাই অনেকেই বাঁধের কাছ থেকে বাড়িঘর ও গাছপালা সরিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া হুমকিতে রয়েছে মঙ্গল মাঝির ঘাট বাজারের দুই শতাধিক দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই আতঙ্কে রয়েছে ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা। এদিকে ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর জন্য বুধবার সকালে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জানা যায়, ২০১০-২০১১ সালে পদ্মা সেতু থেকে মাঝিরঘাট হয়ে পূর্ব নাওডোবা আলমখার কান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ২ কিলোমিটার 'পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড' রক্ষা বাঁধটি নির্মাণ করে সেতু কর্তৃপক্ষ। বাঁধটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় ১১০ কোটি টাকা। এখন পুরো বাধটি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে অর্থ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ভাঙন কবলিত জায়গায় ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেতু বিভাগ যদি ফিজিবিলিটি টেকনিক্যাল ডিজাইনগুলো আমাদের দেয়, তাহলে আমরা দ্রুত এই ভাঙন সমস্যার সমাধান করব।
এ সময় শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ তারেক হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছেন রুতবা ইয়াসমিন
ঝিনাইদহে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল কিশোরীর