দরজায় কড়া নাড়ছে শ্রীলঙ্কা সিরিজ। আগামীকালই দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে উড়াল দেবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ৯ জুন থেকেই তারা শুরু করেছিলেন অনুশীলন। দুই দিনের প্রস্তুতি শেষে বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের মধ্যে তারা খেলেছেন ম্যাচ সিনারিও। নিজেদের ভুলত্রুটি খুঁজে সেগুলো শোধরানোর শেষ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিচ্ছিলেন তারা। যেখানে চোখে পড়েছে নড়বড়ে লিটন দাসকে।
নাহিদ রানার পেস তোপে যেন টিকতেই পারছিলেন না তিনি। যে বলে বোল্ড হতে পারতেন সেই বল ব্যাটের কানায় লেগে হয়েছে সীমানা পার। সেই ওভারেই আবার দারুণ এক কাভার ড্রাইভে চার আদায় করে নেন লিটন। যা দেখে মনে হয়েছিল ব্যাটে ছন্দ ফিরতে যাচ্ছে তার। কিন্তু ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে পরের বলেই স্ট্রেইট ড্রাইভ করতে গিয়ে পয়েন্টে থাকা মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন এই ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে সিনিয়র ক্রিকেটারের এমন পারফরম্যান্স প্রশ্ন রেখে যায়। যদিও সবশেষ ১০ টেস্ট ইনিংসের ৫ বারই দুই অঙ্কের রানের নিচে আউট হয়েছেন। সর্বোচ্চ যেখানে ৪০।
হতাশ করেছেন আরও এক ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়। সারা দিন ফিল্ডিং করে ব্যাট হাতে নেমেই পেসার খালেদ আহমেদের গুড লেংথের বলে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। দারুণ ক্ষিপ্রতায় গালিতে দাঁড়িয়ে থাকা মাহফুজুর রাব্বি সেটা তালুবন্দি করে নেন। জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে দলে ফিরলেও এখনো থিতু হতে পারেননি তিনি।
তবে দলের নির্ভরযোগ্য আরও দুই ব্যাটসম্যানকে মনে হয়েছে বেশ আত্মবিশ্বাসী। শ্রীলঙ্কা সিরিজে ওপেনার হিসেবে দেখা যেতে পারে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে। তার আগে মিরপুরের প্রস্তুতি ম্যাচে আবু হায়দার রনিকে শুরুতেই তুলোধুনা করেছেন তিনি। এমনিতে পেসারদের বিপক্ষে তার খেলার ধরন অনেকটাই নির্ভর করে বলের লাইন ও লেংথের ওপর। ফুল ও গুড লেংথ ডেলিভারিতে টাইমিং নির্ভর কাভার ড্রাইভে তিনি সাবলীল। অফ-স্টাম্পের বাইরের বল নিয়ে তার শট নির্বাচন বেশ পরিণত। আর এসব জায়গায় বল পেয়ে রনির ওভারে তুলে ১৪ রান।
তবে শর্ট বল শান্তকে এখনো পরীক্ষার মুখে ফেলে। বাউন্সি উইকেটে ব্যাকফুট খেলায় আত্মবিশ্বাস কম, পুল ও হুক শটে স্বাচ্ছন্দ্য নেই। ইনসুইংয়ে এলবিডব্লিউ বা বোল্ড হওয়ার প্রবণতাও চোখে পড়ে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে চেঞ্জ-আপ ও সেøায়ার বলেও তিনি মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হন। আবার নাহিদ রানার আগুনের গোলার মতো গুড লেংথের বলেও বিভ্রান্ত হতে দেখা গেছে কাল। রানার সেই ডেলিভারিতে শান্তর ব্যাটের কানায় লেগে সিøপে গিয়েছিল, যদিও সেটা তালুবন্দি করতে পারেননি সাইফ হাসান।
আরেক বাঁহাতি ব্যাটার মুমিনুল হককে দেখা গেল স্পিনার নাঈম হাসানের বিপক্ষে সুইপ শটের পসরা সাজিয়ে তুলতে। নাঈমের টানা দুই ওভারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কয়েকটি চার-ছক্কা হাঁকাতে দেখা যায় ‘মিস্টার সেনসিবল’কে। এমনিতে স্পিনের বিপক্ষে মুমিনুল হক বরাবরই ধৈর্যশীল ও কারিগরি নির্ভর ব্যাটিংয়ের নিদর্শন। অফ-স্পিনারদের বিপক্ষে কভার ও এক্সট্রা কভারে ড্রাইভ খেলার দক্ষতা তার অন্যতম শক্তি। ব্যাকফুটে কাট কিংবা শর্ট বল সামলে নেওয়ার সামর্থ্যও আছে। তবে বাঁহাতি স্পিনারদের ভেতরে ঢোকা বল তাকে মাঝে মাঝে সমস্যায় ফেলে। অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক খেলার প্রবণতায় এলবিডব্লিউ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। হাওয়ায় তুলে খেলার সময় ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে মিসটাইমড শট ক্যাচে পরিণত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে কয়েকবার।
অন্যদিকে আশা জাগিয়েছেন দুই বছর পর জাতীয় দলের স্কোয়াডে ফেরা পেসার এবাদত হোসেন। নাহিদ রানা পূর্ববর্তী যুগে ১৪০ গতির ধারাবাহিকতায় বল করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন টেস্টে টাইগারদের অন্যতম অস্ত্র। লম্বা স্পেলে বল করে যাওয়ার মানসিকতা এবং শর্ট বলে বাউন্স তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার ক্ষমতা তার মূল শক্তি। তেমনই এক বল করে গতকাল মুমিনুলকে পরাস্ত করেন তিনি। তার করা বাউন্সারে আপার-কাট করে থার্ডম্যানে থাকা বিজয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। যদিও প্রস্তুতি ম্যাচে স্যালুট দেননি। তবে সেরা ব্যাটারকে আউট করার তৃপ্তি লেগেছিল এবাদতের চোখেমুখে।
যদিও নিয়ন্ত্রণের ঘাটতিতে লাইন-লেংথ ঠিক রাখতে পারেন না এবাদত। অনেক সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী ডেলিভারি বাছাইয়ের বিচক্ষণতা দেখা যায় না। পুরনো বলে রিভার্স সুইং করার দক্ষতা দেখা যায়নি। তবে ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকায় সেসব নিয়ে কাজ করেছেন নিয়মিত। কতটা আরও পরিণত হলেন সেটাই দেখার অপেক্ষা শ্রীলঙ্কা সিরিজে।
আর গতি তারকা নাহিদকে অল্প কদিনেই প্রিয় করে নিয়েছেন কোচ শন টেইট। লিটনের উইকেট নিয়ে ওভার শেষ করে বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিংয়ে চলে যান রানা। সেখানে উপস্থিত হন পেস বোলিং কোচ টেইট। শিষ্যকে কাছে পেয়ে বাতলে দেন টোটকা। ম্যাচ সিনারিওতে এগুলোই আসলে সুযোগ ক্রিকেটারদের। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলে ফেলতে পারেন পেসাররা। মাঠে কাল সেটাই দেখা গেছে।
