ডিভোর্সি বউকে ফিরে না পেয়ে বাবাকে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ১২ জুন ২০২৫, ০৬:৫০ এএম

কুষ্টিয়ার ইবি থানাধীন মধুপুর গ্রামে দাম্পত্য কলহের কারণে কন্যাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জেরে বাবাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর কুষ্টিয়া উপজেলার মধুপুর গোহাটবাজারে চায়ের দোকানে চা পান করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা মো. টুটুল হোসেন (৫৫) নামে ওই ব্যক্তিকে প্রতিপক্ষের লোকজন গুলি করে হত্যা করে বলে নিশ্চিত করেছে ইবি থানা পুলিশ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ‘টুটুল চা পান করার উদ্দেশ্যে বাজারে এসে জনৈক শওকতের চা দোকানে বসে। এই সময় ২টি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত ৪ জন এসে মোটরসাইকেলের ওপর থেকেই তাকে উদ্দেশ্য করে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

নিহত টুটুল হোসেন (৫৫) মধুপুর গ্রাামের স্থানীয় বাসিন্দা মৃত  তোরাব হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসে জীবন শেষ করে এক বছর আগে দেশে ফিরে একটি মুদি  দোকানসহ কলার ব্যবসা শুরু করেন। তার তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র কন্যা টুম্পা খাতুন (২১) এর ৬ বছর আগে কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেনের (২৮) সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি শিশুপুত্র রয়েছে। তবে তাদের স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় দাম্পত্য কলহের কারণে বিয়ের ২ বছর পর টুম্পা খাতুন তার স্বামী ইমরানকে ডিভোর্স দেয়।

নিহতের মেয়ে টুম্পা জানায়, ‘আমার দেওয়া ডিভোর্স মেনে না নিয়ে প্রায়ই আমার বাপের বাড়িতে আসা যাওয়া করত তার শিশুসন্তানকে দেখার নাম করে। একপর্যায়ে আমাকে পুনরায় বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এই প্রস্তাব আমাদের পরিবারের কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তার প্রস্তাবকে নাকচ করে দেয় আমার পিতা টুটুল  হোসেন। এর ফলে বিয়ে করতে না পেরে আমার পরিবারের লোকজনদের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করতে শুরু করে। একপর্যায়ে আমার বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।

এ বিষয়ে কথা বলতে কুষ্টিয়া জেলা নাগরিক অধিকার পরিষদের নেতা দাবিকারী মীর ইমরান হোসেন হোসেনের মুঠোফোনে কল করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মঙ্গলবার রাতে মধুপুর বাজারে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহতের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত