দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩৪টি। পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে এ সময়ে কেউ করোনায় মারা যায়নি।
নতুন করোনা রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় ৬২টি নমুনা পরীক্ষায় ৮, ময়মনসিংহ জেলায় ৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ২, চট্টগ্রামে ৫৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি মাসের গত ১২ দিনে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮২ জন। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ জন ছিল গতকালের ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল ২ জুন ১৪ জন।
তিন দিন ধরে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা একশর ওপরে। গতকাল এ মাসের সর্বোচ্চ ১৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরপর ১১ জুন ১০৭টি ও ১০ জুন ১০১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। বাকি দিনগুলো সর্বোচ্চ ৪১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ জুন ও সর্বনিম্ন ৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮ জুন।
পরীক্ষা অনুপাতে সর্বোচ্চ শনাক্ত হার ছিল ৮ জুন, ৭৫ শতাংশ। সেদিন চারটি নমুনা পরীক্ষায় তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
এ নিয়ে চলতি বছর করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৪০ জনে। তাদের মধ্যে ৮২ জনই জুন মাসের প্রথম ১২ দিনে শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ বছরের রোগীর ৩৪ শতাংশই ছিল এই ১২ দিনে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে একজনের।
বাংলাদেশে ২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৫৭ লাখ ২৬ হাজার ৬২০টি নমুনা পরীক্ষা করে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫০০ জনের।
করোনা মহামারী শুরুর পর প্রথম বছর ২০২০ সালে করোনায় মারা যায় ৭ হাজার ৫৫৯ জন। এরপর সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার ৫১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল ২০২১ সালে। এরপর ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৬৮ জন, ২০২৩ সালে ৩৭ এবং ২০২৪ সালে ২২ জন রোগী মারা যায় করোনা আক্রান্ত হয়ে।
ভারতসহ পাশের কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং অন্যান্য দেশে ভাইরাসের এই ধরনটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নতুন সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সর্বশেষ গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পরাসহ ১১টি নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল শনিবার থেকে সব সরকারি হাসপাতালে আবার করোনা পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। করোনার টিকাও নিতে পারবে মানুষ। এর আগে গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারত এবং ভাইরাস ছড়ানো অন্যান্য দেশে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলেছে। পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবিলায় সব স্থল ও বিমানবন্দরে হেলথ স্ক্রিনিং ও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে সেখানে।
