ইসরায়েল ও ইরানের শত্রুতা নতুন কিছু নয়। কয়েক দশক ধরে দুই দেশ স্থল, সমুদ্র, আকাশ এবং সাইবার হামলাসহ একে অপরের বিরুদ্ধে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে আসছে। এসব সংঘাত তাদের সম্পর্ককে বৈরিতার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা এখন ধীরে ধীরে প্রকাশ্য যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানে হামলার পরিণতি কী হতে পারে তা নিয়ে এখনো মন্তব্য করা যাবে না। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলোচনায় তারা আরও বলেন, এখনো বুঝা যাবে না এ হামলার বিরূপ প্রভাব কী পড়তে পারে। ইরান পাল্টা পদক্ষেপ কী নেয় তা দেখতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. শাহেদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইরানের ওপর ইসরায়েলি হামলা ছড়াবে কি না এটা এখনই বলা যাবে না। আরও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এটি।
তিনি আরও বলেন, এখন এটা নির্ভর করে ইরান কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়। আমার মনে হয় তারা এখন ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করছে। তারা চাইবে এখন যুদ্ধ যাতে না বাধে। কারণ তাদের অস্ত্রের আণবিক প্রোগ্রামটা যাতে ভঙ্গুর না করে দেয়। সে জন্য তারা হয়তো সহ্য করবে।
তবে ইসরায়েলি এ হামলা ইরানকে যুদ্ধের দিকে আরও ঠেলে দেওয়া হচ্ছে দাবি করে এ অধ্যাপক আরও বলেন, যাতে তাদের আণবিক প্রোগ্রামটা ভঙ্গুর হয়ে যায়। এখনো অপেক্ষা করে দেখতে হবে ইসরায়েল আরও কতখানি আক্রমণ করে।
২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কয়েকবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। তেহরানে ইসরায়েলের সবশেষ এই হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। তীব্রতর পরিস্থিতির ভেতরেই ইসরায়েল গতকাল শুক্রবার ভোররাতে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। তেহরানের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আয়োজিত একটি বৈঠকের একদিন আগেই এ হামলার ঘটনা ঘটল। এ হামলার ভেতর দিয়ে বিশ্বব্যাপী নতুন আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রভাব নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘বড় সংঘর্ষের শঙ্কা’ রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য এ হামলার রসদ জুগিয়েছে বলেও মনে করেন দেশের বিশ্লেষকরা।
গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ‘বড় সংঘর্ষের শঙ্কা’ রয়েছে। ইসরায়েলের ইরানে হামলা চালানো ‘সম্ভব’ বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। তার এই বক্তব্যের পরই গতকাল শুক্রবার ভোররাতে ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা চালায়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রতি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে, ততক্ষণ তারা যেন এমন পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চাই। আমরা চুক্তির বেশ কাছাকাছি চলে এসেছি। আমি বরং একটি চুক্তি চাই।’
ইসরায়েল গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, তারা ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই হুমকি দূর করতে তারা সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জানা গেছে, ইরানের একাধিক স্থানে হামলা হয়েছে। বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক আ ল ম ফজলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইরান আক্রমণের আগে ইসরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার সমঝোতা হয়েছে। আমার যেটা মনে হয় এটার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ষড়যন্ত্র আছে। এই যে ক্যালিফোর্নিয়া এবং লস এঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী গণ্ডগোল, তার পলিটিক্যাল অবস্থাও খুব একটা ভালো না। এসব নানা হিসাব থেকে সম্ভবত ইসরায়েলকে দিয়ে ইরানের ওপর আক্রমণ করানো হয়েছে। আবার ইরানকে দিয়ে একটা লিমিটেড পর্যায়ে ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ করে আবারও আলাপ-আলোচনায় ফিরে আসার একটা পরিকল্পনা হতে পারে আর কি। কারণ এখন পর্যন্ত আমরা যে যাই বলি, পৃথিবীতে দুটো ইসরায়েল আছে বলে আমার ধারণা। একটা হলো ইসরায়েল, যেটা ফিলিস্তিনে; আরেকটা হলো ইরানে। এরা উভয়ই একে অপরের সম্পূরক।
তিনি বলেন, আপনি আজ যদি ইরানের কর্মকাণ্ডগুলো দেখেন, দেখবেন যে ইরানকে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভয় দেখিয়ে আমেরিকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যবসা করে। এটা আমার নিজস্ব ধারণা। কাজেই মধ্যপ্রাচ্যের যেই পলিসি এতে ইরান আক্রমণে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন, এতে আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব আরও বাড়বে। এটাই আমার মনে হয় শেষ পর্যন্ত।
ইরানে ইসরাইলের বিমান হামলায় জামায়াতের তীব্র নিন্দা
ইসরায়েলি হা/ম/লা/য় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি নি/হ/ত