পোশাক শিল্পে নতুন চ্যালেঞ্জ ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৫, ১২:২৬ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ দেশের পোশাক শিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। গতকাল সোমবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে বিজিএমইএর প্রশাসক আনোয়ার হোসেন নব গঠিত কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যসহ সাবেক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহমুদ হাসান বলেন, ‘ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাব সবার ওপর পড়বে। পোশাক শিল্পেও পড়বে। এই অবস্থায় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে আমাদের অনেকগুলো কাজ করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি সবার সহযোগিতায় এই কাজ করতে পরব।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ফারুক হাসান, রুবানা হক, এসএম ফজলুল হক, কাজী মনিরুজ্জামান, আনিসুর রহমান সিনহা প্রমুখ।

এ সময় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী জোট সম্মিলিত পরিষদের পক্ষ থেকে বিজয়ী জোট ফোরামের নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। একই সময় পোশাক শিল্পের অন্য শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএর পক্ষ থেকে বিজিএমইএর নতুন কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।

মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছি, যখন প্রিয় শিল্পটি বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক, ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল, উচ্চ ব্যাংক সুদ, মুদ্রাস্ফীতি, দুর্বল অবকাঠামো ব্যবস্থা, মজুরি বৃদ্ধি এবং জ¦ালানি সংকটে শিল্প অনেকটা নিষ্পেষিত অবস্থায়। এর মধ্য শুরু হয়েছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ। নির্বাচনের সময় মিডিয়ার বন্ধুরা প্রশ্ন করতেন, আপনাদের সামনে চ্যালেঞ্জ কী। আমরা বলেছিলাম, চ্যালেঞ্জ প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ আমাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। সে লক্ষ্যে অনেক কাজ করতে হবে। পোশাক শিল্পের জন্য স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন করার জন্য কাজ করা, এসএমই ও নন-বন্ডেন্ড পোশাক কারখানাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া। কাস্টমস ও ভ্যাট নিয়ে কাজ করব। এলডিসি উত্তরণের প্রভাব নিয়ে আমরা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করব, যেন সঠিক সময়ে এলডিসি উত্তরণ ঘটে। মার্কিন শুল্ক নিয়ে কাজ চলছে। এটি যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে, পারস্পরিক শুল্ক যেন আমাদের ওপর আরোপ না হয় সেটি নিয়ে কাজ করব। এক্সিট পলিসি নিয়ে কাজ করব, আমরা প্রকৃত এক্সিট পলিসি তৈরি করতে চাই। এর বাইরেও আমাদের অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি রয়েছে।’

মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘নতুন বোর্ডের অন্যতম এজেন্ডা হচ্ছে একটি কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক বিজিএমইএ গড়ে তোলা। বিজিএমইএ যাতে একটি সার্ভিস ওরিয়েন্টেড প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এই বোর্ড একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করবে; যেখানে আবেদন, অভিযোগ ও তথ্য জমা দেওয়া যাবে। আমরা সব সময় বলি কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমাতে হবে এবং আমরা বারবার সরকারের কাছে আবেদন করি। বিজিএমইএ’র সদস্যদের যাবতীয় সার্ভিস চার্জ ১ জুলাই থেকে ২৫ শতাংশ কমানো হবে।’

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ প্রশাসক বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনের। ভবিষ্যতে বিজিএমইএ ও দেশের পোশাক শিল্প আরও উজ্জ্বল হবে সেটিই আমার প্রত্যাশা।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘বিভিন্ন প্রোগ্রাম করার জন্যে এই ভবন (বিজিএমইএ কমপ্লেক্স) পরিপূর্ণ রেডি। নতুন কমিটি তা কাজে লাগাবে। এই সেক্টরের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

সাবেক সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো প্রেসিডেন্ট হবেন বাবু ভাই (মাহমুদ হাসান খান বাবু), আমরা সবাই তা বিশ্বাস করি। আর বিজিএমইএর প্রশাসককে অনেক ধন্যবাদ, তিনি এত সুন্দরভাবে নির্বাচন আয়োজন করেছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত