বগুড়া শহরের পালশা চৌকির পাড় এলাকায় একটি ছাপাখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ব্যান্ডরোল ও বিভিন্ন কোম্পানির বিড়ির প্যাকেট উদ্ধার করেছে র্যাব। অভিযানে আটক করা হয়েছে চারজন কর্মচারীকে, যারা ছাপাখানায় ওইসব অবৈধ উপকরণ ছাপানোর কাজ করছিলেন। প্রাথমিকভাবে এসব জাল ব্যান্ডরোল ও প্যাকেটের বাজারমূল্য কোটি টাকার বেশি বলে ধারণা করছে র্যাব।
আজ বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান চালায়। নেতৃত্ব দেন ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—বড় কুমিড়া এলাকার নজরুল ইসলাম (৫২), রাজাপুরের জিসান (১৮) ও সাগর (২০), এবং ডাকুর চক এলাকার আরিফ (২৫)। তাঁরা সকলেই ওই ছাপাখানায় কাজ করছিলেন। অভিযুক্ত ছাপাখানাটি ‘রুহান প্রিন্টিং প্রেস’ নামে পরিচিত এবং এর মালিক মিলন পলাতক রয়েছেন। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার বাঘোপাড়া এলাকায়।
র্যাবের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই প্রেসে সরকার নির্ধারিত ব্যান্ডরোলের নকল তৈরি করা হচ্ছিল। একইসঙ্গে আকিজ, সোনালী, গোপাল, মায়া ও অন্যান্য নামিদামি ব্র্যান্ডের বিড়ির নকল প্যাকেটও ছাপিয়ে বাজারে সরবরাহ করা হতো। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছিল।
অভিযানে চারটি প্রেস মেশিন ও দুটি কাটিং মেশিন জব্দ করা হয়। এসব যন্ত্রে ব্যান্ডরোল ও বিড়ির প্যাকেট ছাপার প্রমাণ পায় র্যাব।
সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। প্রাথমিক গণনায় কোটি টাকার বেশি মূল্যের জাল ব্যান্ডরোল ও প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত হিসাব গণনা শেষে জানা যাবে।”
তিনি আরও জানান, আকিজ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা নিজস্ব ছাপাখানায় প্যাকেট তৈরি করে। ফলে রুহান প্রিন্টিং প্রেসে ছাপানো প্যাকেটগুলো অবৈধ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব। একইসঙ্গে অবৈধ ছাপাখানাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন এনামুল হক।
জামায়াতকে বাড়তি সুযোগের অভিযোগে সংলাপ ছাড়লেন কয়েক নেতা
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে না জড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কতা রাশিয়ার