আজ ট্রাম্পের মধ্যাহ্নভোজের সঙ্গী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৫, ০৮:৫৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ বুধবার হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করবেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরকে। প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন প্রকাশ্য কার্যতালিকায় এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পটভূমিতে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বিরল এক যোগাযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর উভয় দেশই এখন আবারও সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে পাকিস্তানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে এবং আফগানিস্তানসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে স্থগিত হওয়া সামরিক সহযোগিতাও আবার চালু করেছে। অপরদিকে ইসলামাবাদ চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র সম্পর্ক বজায় রেখেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে সচেষ্ট।

প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত আজকের সময়সূচিতে বলা হয়েছে, *“প্রেসিডেন্ট ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।”*

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে এই প্রথম কোনো পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে হোয়াইট হাউসে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি আতিথ্য লাভ করতে দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ এমন উচ্চপর্যায়ের সফর হয়েছিল ২০২২ সালে, যখন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ওয়াশিংটনে পেন্টাগন ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি।

চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানের নেতৃত্বকে “খুব, খুব শক্তিশালী” বলে উল্লেখ করে প্রশংসা করেন। তখন হোয়াইট হাউস পাকিস্তানকে “প্রধান নন-নেটো মিত্র” হিসেবেও অভিহিত করে, যা দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের প্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিলা পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে “অসাধারণ অংশীদার” হিসেবে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে জঙ্গি দমনে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ও চলমান রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দেশের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির অন্যতম নিয়ামক শক্তি। তাই তার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও প্রভাব বিস্তারে ওয়াশিংটনের গভীর আগ্রহেরই প্রতিফলন। এতে আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের পরিণতি, সম্প্রতি পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে সংঘটিত সীমান্ত উত্তেজনা, এবং ইসরায়েল-ইরান সংকটের বিস্তারজনিত প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, চীন যে হারে দক্ষিণ এশিয়ায় অবকাঠামো বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন আবারও অঞ্চলটিতে নিজের কৌশলগত প্রভাব ধরে রাখতে সক্রিয় উদ্যোগ নিচ্ছে। আজকের এই বৈঠক সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত