কচুরিপানা ও রিসাইকেল জিনস থেকে পরিবেশবান্ধব জুতা

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৫, ০৭:৩৮ এএম

ঢাকার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের (বুটেক্স) চার তরুণ শিক্ষার্থী এক অভূতপূর্ব উদ্ভাবনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের পথে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কচুরিপানা ও পুনর্ব্যবহৃত জিনসের সমন্বয়ে তৈরি তাদের পরিবেশবান্ধব জুতা ‘ইকো-স্টেপ’ শুধু টেকসই নয়, আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ীও। গত মঙ্গলবার বুটেক্সের প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ল্যাবে এই জুতা প্রকাশ্যে আনার পর তা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বুটেক্সের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চার শিক্ষার্থী তাশফিক হোসাইন, অর্ণব হালদার অভি, ফারদীন বিন মনির এবং অন্বয় দেবনাথ মিলে এই প্রকল্পে হাত দেন। তাদের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মার্জিয়া দুলাল। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি পণ্য তৈরি করা, যা পরিবেশের ক্ষতি কমাবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের জলাশয়ে অবাধে বেড়ে ওঠা কচুরিপানা জলজ পরিবেশের জন্য হুমকি। এটি অক্সিজেনের ঘাটতি সৃষ্টি করে মাছ ও উদ্ভিদের মৃত্যুর কারণ হয়। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ২ দশমিক ১৬ মিলিয়ন টন ডেনিম বর্জ্য ল্যান্ডফিলে জমা হয়। এই দুই সমস্যার সমাধানে তারা কচুরিপানা ও পুরনো জিনসকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন।

 ইকো-স্টেপের ইনসোল ও সাজসজ্জায় ব্যবহৃত হয়েছে কচুরিপানা। ভেজা কচুরিপানার কাণ্ড শুকিয়ে হাতে ব্রেইডিং করে লম্বা স্ট্র্যান্ড তৈরি করা হয়। এই স্ট্র্যান্ড পেঁচিয়ে সেলাইয়ের মাধ্যমে ইনসোলের আকৃতি দেওয়া হয়। এই ব্রেইডেড স্ট্র্যান্ড জুতার চারপাশে ডেকোরেটিভ লেইস হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে, যা জুতায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও হস্তশিল্পের ছোঁয়া যোগ করেছে। জুতার বাইরের আবরণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে পুনর্ব্যবহৃত ডেনিম কাপড়।

‘ইকো-স্টেপ’ শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, অন্যান্য টেকসই জুতার তুলনায় সাশ্রয়ী। এটি বাংলাদেশের জলাশয় থেকে কচুরিপানা সরিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। একই সঙ্গে, ডেনিম বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে ল্যান্ডফিলের চাপ কমায়। তাশফিক বলেন, ‘আমরা এমন একটি পণ্য তৈরি করতে চেয়েছি, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বর্জ্যকে সৃজনশীলভাবে কাজে লাগাবে। “ইকো-স্টেপ” আমাদের সেই স্বপ্নের প্রথম ধাপ।’

বুটেক্সের এই উদ্ভাবন পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের মতে, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় কচুরিপানা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আয়ের পথ তৈরি করতে পারে। বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে ‘ইকো-স্টেপ’দেশের টেক্সটাইল শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত