৭ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৫, ০৭:৪১ এএম

৯ বছর আগে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি ও রেস্তোরাঁয় আলোচিত সন্ত্রাসী হামলা মামলায় ৭ আসামিকে নি¤œ আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হয়েছে। হাইকোর্টের রায় ঘোষণার ১ বছর ৮ মাস পর গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২২৯ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশিত হয়। ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়। সাজাপ্রাপ্তদের আপিল, জেল আপিল এবং ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) খারিজ করে এ রায় দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায়টি বাংলায় দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিসান বেকারি ও রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জন খুন হয়। মামলার তদন্তে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির কয়েক সদস্য এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

তাদের ছোড়া বোমায় পুলিশের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মারা যান। পরে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ আক্রমণকারী নিহত হন। ঘটনার পর তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়ে একজনকে খালাস দিয়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। তারা হলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ।

আসামিদের আপিল, জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ‘আলোচ্য হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা, নৃশংসতা, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে সন্ত্রাসীদের সামগ্রিক নিষ্ঠুর আচরণ এবং এ ঘটনার ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়া বিবেচনায় নিয়ে আপিলকারী আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে আমরা মনে করি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত