বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছে ২০১৯ সালে। তিনটি আসর শেষ হয়ে গেছে, দুইবার করে ফাইনালে খেলেছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। একবার করে শিরোপা জিতেছে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে। অথচ ইংল্যান্ড, যে দেশে জন্ম টেস্ট ক্রিকেটের জন্মদাতা। সেই দেশই এখনো সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলে এই ফরম্যাটে, তারা একবারও পৌঁছাতে পারেনি সেই কাঙ্ক্ষিত ফাইনালে। প্রশ্নটা উঠছেই—কেন?
কারণ খুঁজতে গেলে চোখ রাখতে হয় কাঠামোর ভেতরেই। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি দল একে অপরের সঙ্গে সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে না। ইংল্যান্ড যেমন নতুন চক্রে খেলবে ২১টি টেস্ট, অস্ট্রেলিয়া ২২। কেউ আবার পায় ১২টির বেশি নয়। ফলে ইংলিশদের প্রতিটি সিরিজই লম্বা, ৪-৫ ম্যাচের। সেখানে হারের সুযোগও বেশি, ফলে শতকরা পয়েন্ট গড় বজায় রাখা হয় কঠিন।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, দলগুলো তাদের জয়-পরাজয়ের হার অনুযায়ী পয়েন্টের শতকরা হার হিসাবেই র্যাংকিংয়ে ওঠানামা করে। ফলে ম্যাচ বেশি খেললেই সুবিধা নয়, বরং বুমেরাং হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইংল্যান্ডের আরেকটি দুর্ভাগ্য তাদের নিজেদের ঘরোয়া ক্যালেন্ডার। গ্রীষ্মজুড়ে তারা খেলে টেস্ট সিরিজ, যেটি প্রায় সময়ই হয় অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্ত দলের বিপক্ষে। যেহেতু সব সিরিজ জেতা সম্ভব নয়, তাই বড় দলের সঙ্গে বেশি ম্যাচ খেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থেকেও শেষ রাউন্ডে গিয়ে পিছিয়ে পড়ে তারা। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড বা ভারত কম ম্যাচ খেলেও শতকরা গড় ঠিক রেখে এগিয়ে যায় ফাইনালের পথে।
তবে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস এসব তত্ত্ব-পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবতে নারাজ। তার দৃষ্টিভঙ্গি সরল, ‘যদি আমরা যথেষ্ট ম্যাচ জিততে পারি, তাহলে নিজেদেরকেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খুঁজে পাব।’
সম্প্রতি ইয়র্কশায়ারে এক সাক্ষাৎকারে স্টোকস বলেন, ‘এটাই সম্ভবত ভালোভাবে বোঝানোর একটা উপায় যে আমরা এই বিষয়টা নিয়ে খুব বেশি ভাবি না। আমরা সামনে যেই ম্যাচটা আছে সেটির দিকেই মনোযোগ দেই, সিরিজটির দিকে মনোযোগ দেই, আর যদি আমরা ম্যাচ জিতি, তাহলে আমরা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছে যাব।’
পরবর্তী সাত মাসে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘ সিরিজের কারণে পথটা আবারও কঠিন, তবে স্টোকস প্রতিদিনের খেলা নিয়েই মনোযোগী, আশায় আছেন যে সামগ্রিক লক্ষ্যটা ঠিকঠাক পূরণ হবে।
স্টোকস এটিও বলেছেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কাঠামো ‘সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর’। তার এই বক্তব্য একেবারে অমূলক নয়। বাস্তবতা হলো, প্রতিটি দল যখন ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা ও দৈর্ঘ্যের সিরিজ খেলে, তখন প্রতিযোগিতার ভারসাম্য রক্ষা করাটা হয় কঠিন। ইংল্যান্ড দলের চ্যালেঞ্জটা তাই শুধু মাঠের প্রতিপক্ষ নয়, কাঠামোগত জটিলতাও।
তবু আশাবাদী থাকতে হয়। নতুন চক্রের শুরুতে ইংল্যান্ডের সামনে বড় দুই চ্যালেঞ্জ—ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম-অ্যাওয়ে সিরিজ। সেখানেই বাজিমাত করতে পারলে এবার হয়তো ইতিহাস বদলাবে। স্টোকসের দল সেই সম্ভাবনায় বুক বাঁধলেও, বাস্তবতা বলছে, শুধু ম্যাচ জিতলেই হবে না, কাঠামোর সীমাবদ্ধতার সঙ্গেও লড়তে হবে সমান তালে।
তাতে হয়তো আরও একবার প্রশ্ন উঠবে—বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ কি সত্যিই সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতা?
'মাস্তান'-এর মোহে পড়েছেন রিয়াল বস
তৃতীয় দিন শেষে ১২৭ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ
স্থায়ীভাবে নয়, হামজাকে লোনে ছাড়তে রাজি লেস্টারসিটি