সেনাসদরের ব্রিফিং

জাতীয় নির্বাচনের নির্দেশনা পায়নি সেনাবাহিনী

আপডেট : ২০ জুন ২০২৫, ০৫:৪২ এএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে অফিশিয়াল কোনো নির্দেশনা পায়নি সেনাবাহিনী। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করা হবে। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় ‘মব ভায়োলেন্স’ কমে আসার কথা জানিয়েছে সেনাসদর। জানমালের ক্ষতি, ‘মব ভায়োলেন্স’ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকের পর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে। সেনাবাহিনী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না প্রশ্ন করা হলে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো সরকারের পক্ষ থেকে অফিশিয়াল কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করব। মব ভায়োলেন্স কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী যেকোনো পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কঠোর হয়েছে। আমরা মব ভায়োলেন্স অনেকাংশে কমিয়ে নিয়ে এসেছি। রংপুরে যে মব ভায়োলেন্স ঘটেছিল, সেখানে সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়ার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল।’

ঈদুল আজহাকেন্দ্রিক কার্যক্রমে সেনাবাহিনী কতটুকু সন্তুষ্ট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঈদুল আজহার সময় সেনবাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বাস ও রেলস্টেশনে এবং লঞ্চ টার্মিনালে দিন-রাত সার্বক্ষণিক টহল দিয়েছে। এ ছাড়া স্পর্শকাতর স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আমাদের পুরুষ অফিসারদের পাশাপাশি নারী অফিসার ও সৈনিকরা রাস্তায় নেমে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে। আমরা ১ হাজার ২৫৫টি গাড়ি থেকে ৩৫ লাখেরও বেশি টাকা যাত্রীদের ফেরত দিতে সক্ষম হয়েছি। সবই সম্ভব হয়েছে সেনাবাহিনীর দায়িত্ববোধের কারণে। গত ঈদের তুলনায় এ বছরের ঈদে মৃতের সংখ্যা এবং গুরুতর আহতের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছি।’

জাতীয় পতাকা বিক্রির সময় এক ব্যক্তিকে পেটানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা জানেন এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল ম্যাচ ছিল। সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য যতটুকু করার প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়েছে। এটি একটি দুঃখজনক ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা। পরে আমরা ওই পতাকা বিক্রেতাকে ডেকে সমবেদনা প্রকাশ করি। তার ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়।’

ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত থেকে পুশইনের বিষয়ে সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সতর্ক এবং সজাগ আছে। সীমান্ত এলাকায় তারা টহল বৃদ্ধি করেছে। সেসব জায়গায় স্থায়ী এবং অস্থায়ী ক্যাম্পের সংখ্যা এবং ওইসব এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো বিষয় এখনো কাটেনি, তাই বিষয়টি বিজিবি ও কোস্ট গার্ড দেখছে।’

সম্প্রতি অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এ ধরনের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কোনো তালিকা করা হয়েছে কি না, আর হয়ে থাকলে এ বিষয়ে সেনাবাহিনী কী ব্যবস্থা নেবে, জানতে চাইলে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী বা যেকোনো সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের সময় যে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, আমরা এর গোপনীয়তা রক্ষা করি। পরে আমাদের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের একটি প্রতিবেদনে আরাকান আর্মির উত্থানে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।’

এ বিষয়ে সেনাসদরের কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য নেই।’

ব্রিফিংয়ের বলা হয়, গত তিন সপ্তাহে ৫৬টি অবৈধ অস্ত্র ও ৯৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। আর গত বছরের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৬৬৭টি অবৈধ অস্ত্র ও ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তা ছাড়া ১৫ হাজার ২৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এর মধ্যে কিশোর গ্যাং, তালিকাভুক্ত অপরাধী, ডাকাতসহ অন্যান্য অপরাধী রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান চলমান আছে জানিয়ে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত তিন সপ্তাহে ৪৫২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ হাজার ৪৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত