দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অপরাধে কারাভোগ শেষে ১৪ জন নারী-পুরুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন। বিভিন্ন সময়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে পাচারের শিকারের পর সে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন তারা। পরে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার নরসিংগর ক্ষণস্থায়ী আটক কেন্দ্রে রাখা হয় তাদের।
জানা গেছে, ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আগরতলা থেকে আখাউড়া সীমান্তের চেকপোস্ট দিয়ে তারা দেশে ফিরেন। তারা প্রত্যেকে বিভিন্ন মেয়াদে ভারতে জেল খেটেছেন। আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দরে তাদের ভারত থেকে গ্রহণ করার সময় ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও পাচার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা হলেন ফেনীর ইসমাইল ভূঁইয়া, হারুন মজুমদার, নারায়ণগঞ্জের পাপিয়া আক্তার, গোপালগঞ্জের লিজা খানম, নড়াইলের লিজা খাতুন, চাঁদপুরের আশা মনি, খুলনার মাহফুজুল ইসলাম, তাহুরা বিবি, আঁখি ইসলাম, নেত্রকোনার সঞ্জয় দাস, স্বপন দাস, সুনামগঞ্জের বিপুল দাস, যশু দাস ও সুশেন দাস। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের ফিরে পেয়ে আখাউড়া স্থলবন্দরের শূন্য রেখায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার আগরতলাস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনের কনস্যুলার অ্যাসিস্ট্যান্ট ওমর শরীফ, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, ইমিগ্রেশন ওসি আব্দুস সাত্তার, আখাউড়া আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
ভারত ফেরত খুলনার মাহফজুল ইসলামের মা আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে, ছেলের বউ, নাতনি ১১ মাস আগে কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হয় যায়। পরে খবর পাই ভারতে গিয়ে আটক হয়েছে। সরকারি প্রক্রিয়া শেষে আজকে তাদের ফিরে পেয়ে ভালো লাগছে।’
ভারত ফেরত সুনামগঞ্জের স্বপন দাসের ভাই তপন দাস বলেন, ‘দালালের খপ্পরে পড়ে ভারতে ধান কাটতে গিয়েছিলেন আমার ভাই। আজ আইনি প্রক্রিয়ার শেষে ভাইকে ফেরত পেয়ে ভালো লাগছে।’
