মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে। পাঁচ দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিয়ত হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই তীব্র সংঘাত এখন অষ্টম দিনে প্রবেশ করেছে। পুরো অঞ্চল যেন এক বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে, যেখানে সমুদ্রসীমান্তেও দুই দেশের আকাশসীমা লড়াইয়ে মগ্ন।
গত মঙ্গলবার ভোরে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তরকে লক্ষ্য করে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। এরপর থেকে তেল আবিব ও হাইফাসহ বিভিন্ন শহর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইরানি হামলায় তেল আবিবের স্টক এক্সচেঞ্জ, রামাত গান শহরের ডায়মন্ড এক্সচেঞ্জ, হোলোন শহর ও ১০০০ শয্যার সরোকার হাসপাতালসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সরোকার হাসপাতালের পাশের সামরিক কমান্ড কেন্দ্র। হামলায় প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। হামলার ফলে হাসপাতাল কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটি ইরানের উদ্দেশ্য ছিল না।
ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি। তেহরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার রাতে আইআরজিসি জানিয়েছে, হাইফা ও তেল আবিবে নতুন ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। প্রায় ১০০ ধরনের যুদ্ধ ও আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সময়ে ইসরায়েল তেহরানের পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রগুলোতেও আঘাত হানে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং এখন শুধু সিল ছাড়া প্রয়োজন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাঁর দেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে বলেছেন, শত্রুর সামনে ভয় দেখানো যাবে না। তিনি বলেছেন, “আপনারা যতটা সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা অব্যাহত রাখুন।”
অপর দিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ খামেনিকে ‘আর বাঁচতে দেওয়া যাবে না’ বলে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “খামেনি ইসরায়েল ধ্বংস করতে চায় এবং হাসপাতালের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।”
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মাঝে তুরস্ক সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তুরস্কের যুদ্ধবিমান সীমান্তে টহল দিচ্ছে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্ভাবনা কমানো যায়।
ইরানে হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩৯ এবং আহত ১৩২০ ছাড়িয়েছে, বলছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস।
এদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাশেম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহ নীরব থাকবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের প্রতি সমর্থন অবিচল রাখব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।’
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছে, যেখানে ইরান ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
ইরানের পর পাকিস্তানে হামলার হুমকি দিলেন ইসরায়েলি নেতা
বৃষ্টির ধারা থামছে না, গরমও কমছে না তেমন
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের ‘সম্মানিত মানুষদের’ আনন্দিত করেছে: খামেনি