১৯৬৫ সালে আলাউদ্দিন আল আজাদের রচনায় ও মোহাম্মদ জাকারিয়ার পরিচালনায় ‘ত্রিধারা’ দিয়ে শুরু হয় দিলারা জামানের অভিনয় জীবন। আজও অভিনয়ের সঙ্গেই আছেন তিনি। এই বয়সেও শুটিং করেন। ৬০ বছরের অভিনয় জীবনে একটি স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল তার। আজ জন্মদিনে জানালেন, সেই যে একটা ওল্ড হোম করার স্বপ্ন ছিল, তা আজও পূরণ হয়নি। কবে পূরণ হবে তা জানিও না।
দিলারা জামানের অভিনয় জীবন ৬০ বছরের। ১৯ জুন তিনি ৮৩ বছর পার করে ৮৪ শুরু করেছেন। এবারের জন্মদিনে বড় মেয়ে সঙ্গে আছে, তাই মনটা বেশ ভালো আছে বলে জানালেন।
কথা প্রসঙ্গে দিলারা জামান বললেন, জন্মদিন তো পালন করি না। মেয়েরা দেশে থাকলে উৎসাহ নিয়ে করে, আবার আমি তাদের কাছে থাকলেও করে। অভিনয় অঙ্গনে আমার সহকর্মীরাও উৎসাহ দেখায়। চ্যানেল আইয়ের সরাসরি অনুষ্ঠান তারকা কথনে প্রায়ই আসা হয়। এবারও হয়েছে। মেঘে মেঘে তো বেলা কম হলো না। ৮৪ বছরে পা দিলাম। এতদিন সুন্দরভাবে বাঁচতে পেরেছি, এখনো সুস্থ আছি-এটাই কম কী। আলহামদুলিল্লাহ। তবে আফসোস, এখনো তো কিছুই করতে পারিনি। মানুষের মনে জায়গা করে নিতে বা মানুষ যাতে সব সময় মনে রাখে, সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। জানি না, কতটুকু মানুষ মনে রাখবে।’
কী করতে চেয়েছিলেন এমন প্রশ্নে জানালেন সেই ওল্ড হোম নিয়ে স্বপ্নের কথা। বললেন, ‘৩০ বছর আগে গাজীপুরের একটি ওল্ড হোমে শুটিং করতে গিয়েছিলাম। নাটকের নামটা এখন মনে করতে পারছি না। আমার সহশিল্পী আনোয়ার হোসেন ভাই। ওই নাটকেরই শুটিং করতে গিয়ে বুড়ো মানুষের অসহায়ত্ব দেখি। এমনিতেও চারপাশে বুড়ো মানুষের কষ্ট দেখি। শেষ বয়সে এসে তো তারা শিশুর মতো হয়ে যান, তখন তাদের আর সেভাবে দেখার মতো কেউ থাকে না। অথচ এই সময়টায় তারা থাকেন খুব অসহায়, কিছু বলতেও পারেন না। মা-বাবারা তখন বিষয়গুলো নিজেই উপলব্ধি করতে পারেন। বৃদ্ধ মানুষের কষ্টটা কেউ বুঝতে পারে না, চায় না। আপন যে সন্তান, সে-ও বুঝতে পারে না।’
বৃদ্ধাশ্রমের স্বপ্নটা এখনো পূরণ হয়নি, তবে রয়েছে। তিনি বললেন, ‘আমার মেয়েরা তো এখনো বলে, দেখি আমার মায়ের অপূর্ণ স্বপ্নপূরণে কিছু করতে পারি কি না। এটা যদি করতে পারতাম, তাহলে অনেক মানুষের উপকার হতো। যাদের কেউ নেই, বুড়োকালে যারা একাকী থাকেন ও রকম মানুষের জন্য কিছু করা আরকি। অবশ্য আমার একার পক্ষে তো এটা এখন আর সম্ভবও না।’
অভিনয় আমৃত্যু করে যাবেন এমন প্রশ্নে দিলারা জামানের মত, ‘আমার তেমনই চিন্তা। অভিনয় করতে করতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাই। যে যাই বলুক না কেন, যতই ব্যাকডেটেড বলুক না কেন, আমি আমার অভ্যাস থেকে বের হতে পারব না।’