শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ দুই সহপাঠী আটক

আপডেট : ২১ জুন ২০২৫, ০৭:৪৩ এএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়েরই দুই ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি উঠেছে সর্বত্র। আটক হওয়া দুই ছাত্র হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের (২০২১-২২ সেশন) ছাত্র শান্ত তারা আদনান এবং স্বাগত দাশ পার্থ। কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জিয়াউল হক জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে একজনকে ক্যাম্পাস থেকে এবং অন্যজনকে সিলেটের সুরমা আবাসিক এলাকা থেকে আটক করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসের শুরুর দিকে একটি কনসার্টে অংশ নিতে রিকাবিবাজার যাওয়ার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে কৌশলে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে নিয়ে যান অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী। সেখানে তাকে অচেতন করে রাতভর ধর্ষণ করেন এবং সেই সময়ের ভিডিও ধারণ করে রাখেন তারা। পরদিন সকালে জ্ঞান ফিরে আসার পর ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজেকে নির্যাতনের শিকার অবস্থায় দেখতে পান। অপরাধীরা তখন জানিয়ে দেন, তার সঙ্গে তারা শারীরিক সম্পর্ক করেছেন এবং সে সময়ের ভিডিও রয়েছে তাদের কাছে। এরপর থেকেই ওই ছাত্রীকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন তারা।

পরে সাহস সঞ্চয় করে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী। পাশাপাশি ঘটনাটি এক সহপাঠীকে জানান তিনি। এরপর বিষয়টি কয়েকজনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আটক করে। আটক হওয়া শান্ত তারা আদনান দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মামলারও আসামি। এর আগে, ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করে প্রক্টর অফিসে হাজির করা হয়। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রী আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি এবং যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ এ ঘটনায় সিলেটের কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুজনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিক সত্যতা মেলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পুলিশে সোপর্দ করে। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শামছুল হাবিব বলেন, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরের দিকে আসামিদের সিলেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ পাঠানো হয়েছে। বিচারকের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহপাঠীরা ওই দুই শিক্ষার্থীকে সামাজিকভাবে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘অভিযুক্তরা বিভাগের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না। আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’ অন্যদিকে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বিকেলে মিছিল করেছেন বিশ^বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষাথীরা। এ সময় অভিযুক্তদের ছাত্রত্বও বাতিলের দাবি জানান তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত