স্বেচ্ছামৃত্যু বিলে ব্রিটেনের সংসদের নিম্নকক্ষের সায়

আপডেট : ২২ জুন ২০২৫, ১২:১৬ এএম

অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ হাতেগোনা কয়েকটি দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমোদন দিয়েছে। এবার সেই পথে হাঁটছে যুক্তরাজ্যও। মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের চিকিৎসকের সহায়তায় স্বেচ্ছামৃত্যুর বৈধতা দেওয়া বিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য। গত শুক্রবার হাউজ অব কমন্সে ‘টার্মিনালি ইল অ্যাডাল্টস (অ্যান্ড অব লাইফ)’ বিলটি হাউজ অব কমন্সে ৩১৪-২৯১ ভোটে গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এখন বিলটি উচ্চকক্ষ লর্ডস হাউজে যাবে। সেখানে অনুমোদিত হলে বিলটির আইনে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকবে না। তবে উচ্চকক্ষ কোনো সংশোধনী আনলে তা নিয়ে হাউজ অব কমন্সে ফের ভোট হবে। নতুন এ বিলে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে ছয় মাস বা তার কম সময় বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন মানুষের চিকিৎসকের সহায়তায় স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন সরকার এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়। যে কারণে সাংসদরা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ঊর্ধ্বে উঠে এ বিলে ভোট দিতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

বিলটির সমর্থকদের ভাষ্য, এটি আইনে পরিণত হলে তা শারীরিকভাবে নিদারুণ কষ্টে থাকা মানুষদের মর্যাদাপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল বিদায়ের সুযোগ এনে দেবে। অন্যদিকে বিরোধীদের আশঙ্কা, এতে দুর্বল ও প্রভাবিত ব্যক্তিরা চাপে পড়ে আত্মহত্যায় বাধ্য হতে পারেন। মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত ৪২ বছর বয়সী এমা ব্রের চিকিৎসকদের অনুমান তিনি বড়জোর আর ছয় মাস বাঁচবেন। এমা জানান, এই বিল আইনে পরিণত হলে তা ভবিষ্যতে তার মতো মানুষের জন্য কিছু পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশা করছেন। জনমত জরিপগুলোয় দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্রিটিশ নাগরিকই চিকিৎসকের সহায়তায় স্বেচ্ছামৃত্যুর পক্ষে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে হাউজ অব কমন্সে বিলটি নিয়ে নীতিগত ভোট হয়েছিল, সেখানেও এটি ৩৩০-২৭৫ ভোটে পাস হয়। এরপর পার্লামেন্ট কমিটির পর্যালোচনা, সংশোধন ও বিতর্কের পর চূড়ান্তভাবে শুক্রবার বিলটি ভোটের জন্য তোলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত