দৌলতপুর

চিকিৎসক ও প্রাইভেট ক্লিনিক চক্রের দ্বন্দ্বে ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

আপডেট : ২২ জুন ২০২৫, ০৪:৪৯ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও প্রাইভেট ক্লিনিক-ডায়াগনোসিস সেন্টারের মধ্যে বিবদমান দ্বন্দ্বে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহতের অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকদের দাবি, উপজেলা পর্যায়ের নানাবিধ সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দিতে হাসপাতালে এক্স-রে ব্যতীত অন্যান্য সব ধরনের প্যাথলজি টেস্ট চালু থাকায় ক্ষুব্ধ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনোসিস সেন্টারের মালিকরা। তারা নানা ভাবে চিকিৎসকদের সাথে অসদাচরণসহ সম্মানহানির ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে।

অন্যদিকে প্রাইভেট ক্লিনিক সিন্ডিকেটের পাল্টা অভিযোগ, চিকিৎসকরা হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসা না করে অফিসিয়াল সময়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখেন। দু’পক্ষের এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থার কারণে হাসপাতালে আগত রোগীরা কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বদলে ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন রোগীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একটি ক্লিনিকের ম্যানেজারের অভিযোগ, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ছামসুল আরেফীন হাসপাতালের রোগী দেখার চেয়ে তার স্ত্রী ডা. তানজিনা জাহান বিথীর মালিকানাধীন আল শেফা ক্লিনিকের রোগী দেখায় অধিক সময় ব্যয় করেন।

তবে অভিযোগ বিষয়ে ডা. তানজিনা জানান, ‘এখানে শুধু আরএমও নয় আরও অনেক চিকিৎসকই রোগী দেখেন হাসপাতালে রোগী দেখার বাইরে।’

হাসপাতালে আগত উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ মণ্ডলের (৬০) অভিযোগ, ‘আমরা এত বুইঝবো কি করে, হাসপাতালে আইসলে সবাই একেবারের আপন মাইনসের মতো টানটানি করে বাইরে লিয়ে যায়, ওরা ক্লিনিকে লিয়ে যায়ি ছেইড়ি দ্যায়। তারপর যা হয় তা হইলু, আবার বাড়িত তিন ট্যাকা লিয়ে আসতি হয়।’

এমন সংকটময় বাস্তবতার অভিযোগ তুলে তার প্রতিকার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা। রবিবার বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছামসুল আরেফিন বলেন, ‘নানাবিধ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও উপজেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৬শ বহির্বিভাগ ও ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৯০ থেকে ১০০ জন ভর্তি রোগীর সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিতে যখন হিমশিম খাচ্ছি। ৩৫ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও এখানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৮ জন। এই অবস্থায় প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনোসিস সেন্টারের দালালদের দৌরাত্ম্যে হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়াসহ ভোগান্তি এখানে নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাইভেট ক্লিনিকের এসব দালালদের দৌড়াত্ম্যমুক্ত করতে ইতোমধ্যে প্রশাসনের সাহায্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনের শাস্তি দেওয়া হয়। তারই প্রতিশোধ নিয়ে তারা মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য সরবরাহ করে চিকিৎসকদের সামাজিকভাবে সম্মানহানি ঘটাতে কয়েকটি ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করে।

তাই অসত্য ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদের তদন্তসহ উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তারা। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্যান্য চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারীরা।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত করে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত