সাতক্ষীরায় পুকুরে ডুবে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৫, ০১:৩৪ পিএম

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পানিতে ডুবে সুমাইয়া আছমিন মিতু (৮) নামে এক শিশু মারা গেছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে মিতুর জানাযার নামাজে নামে শোকার্ত মানুষের ঢল। পরপর দুইদিনে দুই শিশুর মৃত্যুতে সবার মাঝে আরও সচেতন হওয়ার বার্তা আসে।

সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বাকসা গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। মিতু বাকসা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মোহাম্মদ আলি ও গৃহবধূ মা রিমা খাতুনের একমাত্র সন্তান। সে হঠাৎগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে কলারোয়া থানার অফিসার ইনজার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, দুপুরে বাড়ির পাশের পুকুরে একা গোসল করতে নামে ছোট্ট মিতু। অনেকক্ষণ ধরে ঘরে না ফিরলে তারা পুকুরে খোঁজ করতে গিয়ে বাঁশের সিঁড়ির নিচে শিশুটিকে পানিতে ভাসতে দেখে। দ্রুত তাকে উপরে উঠিয়ে স্থানীয়রা কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কন্যার মৃত্যুর ঘটনা জানতে পেরে মালয়েশিয়া থেকে রওয়ানা দেন মিতুর প্রবাসী বাবা মোহাম্মদ আলি। 

বেসরকারি সংগঠন উত্তরণের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জমাদ্দার বলছেন, সাতক্ষীরায় পরপর দুইদিন পানিতে ডুবে দুই শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। শিশুদের কখনোই পানির ধারে একা যেতে দেওয়া উচিত নয়। সবসময় প্রাপ্তবয়স্কদের নজরদারিতে রাখা দরকার। বাড়ির আশেপাশে পুকুর বা জলাশয় থাকলে তার চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনি দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সাঁতার শেখানো হলে এমন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানো সম্ভব। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়ভাবে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো এবং শিশুদের জন্য বিকল্প খেলার জায়গা নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের জরুরী পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত