বছর ঘুরে প্রতিবারই কুষ্টিয়াতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হয় পরিবেশ দিবস। স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ সুরক্ষায় করণীয় নানাবিধ পদ্ধতিগত সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগও নেয়া হয় এসব দিবস পালনের আয়োজনে। কিন্তু নাগরিক জীবনের বাস্তবতায় এসব আয়োজনের টেকসই কোন ইতিবাচক প্রভাব নেই বলে অভিযোগ কুষ্টিয়া পৌরবাসীর।
উন্মুক্ত ড্রেনেজ-সুয়ারেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে নানা রোগ বিস্তারসহ দুষিত পরিবেশে উৎকট দুর্গন্ধে দুর্বিষহ পৌরবাসীর জীবন। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, উন্মুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইনত সম্পূর্নরূপে নিষিদ্ধ। তারপরও আর্থিক সংকট ও জনবল সীমাবদ্ধতায় বর্জ্য
ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছ বলে জানায় পৌর কৃর্তপক্ষ। তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ল্যান্ডফিল তৈরির প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অনেকটাই দূষণ রোধ সম্ভব হবে বলে জানায় পৌর কর্তৃপক্ষ।
কুষ্টিয়া পৌরসভার বাড়াদি-যুগিয়া মাঠের একমাত্র ডাম্পিং ইয়ার্ডে উন্মুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। এর ফলে পানি ও বায়ুদূষণের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। পাশে রাস্তায় চলাচলরত পথচারীদেরও পোহাতে হয় ভোগান্তির। এলাকাবাসীর অভিযোগ এই ডাম্পিং ইয়ার্ডের কারণে ছড়িয়ে পড়ছে নানাবিধ রোগ বালাই। এমনকি ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে আশপাশের কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় চাষীদের।
স্থানীয় বাড়াদি গ্রামের কৃষক শফিউল সেখের অভিযোগ, ‘পৌরসভার পরিবেশ বাঁচাতে গিয়ে এই (ভাগারে) যেভাবে ময়লা আবর্জনা পচাচ্ছে, এই মাঠে কাম করতি আসলি দুর্গন্ধে আমারে কইলজিও পইচি যাচ্ছে। এই দু:খির কথা কেউ শোনে না’। তিনি বলেন, 'রাইত নি দিন নি যেকন সেখন আগুন জ্বালায় দিলি তকন এই এলাকায় আর থাকা যায় না’। যুগিয়া গ্রামের বিদ্যুৎকর্মী হামিদুল ইসলামের অভিযোগ, ‘প্রতিদিন এই রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। প্রায়ই পৌরসভার ভ্যান চালকরা এসে রাস্তার উপরই ময়লা ফেলে চলে যায়। এতে একটু জোড়ে বাতাস কিংবা বৃষ্টি হলে আর এই রাস্তায় যাতায়াত তো দুরের কথা এই এলাকাতেই ঢুকা যায় না’।
পাশেই স্থাপিত হওয়া মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থপনা কার্যক্রম কেন্দ্রের ইনচার্জ সাব্বির হোসেন বলেন, ‘এখানে ডাম্পিং ইয়ার্ডে উন্মুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চললেও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সেই সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবেশ দুষণ রোধে গুরুত্বপূর্ন অরও একটি খাত হলো মেডিকেল স্ক্র্যাপ, যা ক্যান্সারসহ মানবদেহে নানাবিধ প্রাণঘাতি রোগের কারণ হতে পারে। সে কারনে সংবিধিবদ্ধ
নির্দেশনা মেনে সুরক্ষিত কম্পাউন্ডে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিশ্চিতের করা প্রয়োজন বলে উল্লেক করেন সাব্বির হোসেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক আতাউর রহমান জানান, ‘স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সুরক্ষায় উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোন সুযোগ নেই। কুষ্টিয়া পৌরসভা বাড়াদি-যুগিয়া মাঠে যে উন্মুক্ত ডাম্পিং ইয়ার্ডে জরুরী ভিত্তিতে অন্তত একটি বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের অনুরোধ করে এলাকাবাসীর একটি চিঠি পেয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, এ বছরের শেষ দিকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ওইখানে প্রস্তাবিত ল্যান্ডফিল্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যা আর থাকবে না’।
বর্তমানে প্রতিদিন পৌর এলাকায় প্রায় ৫৫ টন বর্জ্য সৃষ্টি হয়। কুষ্টিয়া পৌর কর্তৃপক্ষ জানায় যে জনবল ও পরিবহন সক্ষমতা রয়েছে
তাতে সর্বোচ্চ ৩৫ টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
