মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আয়োজন করা বিশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে বড় আকারে প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাবে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন ন্যাটো নেতারা। বুধবারের এই সম্মেলনে ন্যাটো সদস্যদের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আশ্বস্তমূলক বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প।
২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউরোপের দেশগুলো। এই হুমকি ক্রমশ বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে বিশেষ এক সম্মেলনের আয়োজন করেছে ন্যাটো।
এই সম্মেলনে নেতাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষার কাজে সামরিক ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা। এই লক্ষ্য ট্রাম্পের দাবিরই প্রতিফলন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইউরোপের দেশ ও কানাডার জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো সহজ হবে না। তবে এটি এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, রাশিয়ার হুমকি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আমার সহকর্মীদের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ঐক্যমত তৈরি হয়েছে—এই ব্যয় ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।
সম্মেলন শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমকে ট্রাম্প বলেন, আমরা জোটের সদস্যদের পাশে আছি।
সামরিক বাজেটের নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী ১০ বছরের মধ্যে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে তাদের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করতে হবে—যা আগ ছিল জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ।
এর মধ্যে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে সরাসরি সামরিক খাতে—যেমন সেনা, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে। বাকি ১ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় হবে সাইবার সুরক্ষা, জ্বালানি পাইপলাইন রক্ষা ও সামরিক যান চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো উন্নয়নের মতো কার্যক্রমে।
সব সদস্য দেশ নতুন লক্ষ্যকে সমর্থন করলেও স্পেন জানিয়েছে, তারা ৫ শতাংশ ব্যয় করবে না। দেশটি মনে করে, অনেক কম ব্যয় করেও তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা সম্ভব।
দুই বছর আগে সদস্যপদ পাওয়া রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশ ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব যাদের সদস্যপদ মাত্র বলেন, আমরা নতুন এক ন্যাটোর উত্থান দেখছি। এই ন্যাটো অনেক ভারসাম্যপূর্ণ যেখানে ইউরোপের দায়িত্ব আরও বেশি।
