রায়গঞ্জে চুরির অপবাদে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চর তেলিজানা গ্রামে চুরির অপবাদ দিয়ে ফরিদুল ইসলাম (১৮) নামের এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২০ জুন) দুপুরে এ নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এই নির্যাতনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পরলে তা মূহুর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। 

নির্যাতিত ফরিদুল ইসলাম একই উপজেলার চর তেলিজানা আদর্শ গ্রামের দরিদ্র শহিদুল ইসলামের ছেলে। 

এ বিষয়ে ফরিদুলের মা ফরিদা খাতুন জানান, গত শুক্রবার (২০ জুন) ওই এলাকার নজির উদ্দিনের ছেলে রাকিব ও ইলিয়াসের বাড়িতে আমার ছেলে ফরিদুল রাজমিস্ত্রির কাজ করছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ ৫ হাজার টাকা চুরির অপবাদে তাকে পড়া খাওয়ায়। এর ইউক্যালিপটাস গাছের সাথে বেঁধে বেধরক মারপিট ও নির্যাতন করে। খবর পেয়ে আমি ও আমার স্বামী সেখানে ছুটে গেলে তারা আমাদেরও মারধর করে।

তিনি আরও জানান, আমার শাশুড়ি একজন প্রতিবন্ধী। তিনি মাত্র ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর ক্রয় করেন। গত ৩ মাস পূর্বে ওই এলাকার সাব্বির এসে তার শাশুড়ির ওই ঘরে তালা দিয়ে তাদের কাছে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। না হলে আমার শাশুড়িকে ঘর থেকে বের কওে দেওয়ার হুমকি দেয়। ফলে আমরা স্থানীয় একটি সমিতি থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তাকে দেই। এরই জের ধরে রাকিব ও ইলিয়াস ফরিদুলকে টাকা চুরির অপবাদে গাছে বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করে। ফরিদুলকে আমরা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তারা বাঁধা দিয়ে আমাকে, আমার স্বামীকেসহ আমাদের আরো ৪/৫ জনকে মারধর করে আহত করে। আমরা গ্রামের মাতব্বরদের কাছে এর বিচার চাইলে তারা গত ৫ দিনেও কোন বিচার দেয় নাই। মঙ্গলবার ফরিদুলের নির্যাতনের একটি ভিডিও একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাড়লে তা ভাইরাল হয়। 

উরিদুলের বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, চুরির বিষয়টি আমাদের না জানিয়ে তারা আমার ছেলেকে অন্যায় ভাবে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেছে। আমি ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় বাধা দিলে আমাদেরও মারধর করেছে। আমি এলাকাবাসীর কাছে বিচার চাইলে তারা কোন বিচার দেয়নি। বিচার দেওয়ার কথা বলে আমাকে থানায় যেতে দেয়নি। এ ঘটনার আমি সঠিক বিচার চাই।

চর তেলিজানা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত আব্দুল হাকিম ও দুলাল হোসেন জানান, এ বিষয়ে বিচারের কথা ছিল। কিন্তু কোনো পক্ষই আমাদের কথা শোনেনি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে রাকিব ও ইলিয়াস হোসেনের মোবাইলে কল করা হলে তারা কোনো কথা বলবেন না বলে ফোন কেটে দেয়। ফলে তাদেরও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কেএম মাসুদ রানা জানান, এ ঘটনা তার জানা নেই। তবে আপনারা এ বিষয়ে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত