রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় আওয়ামী লীগের অধীনে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি ডামি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি আরও বলেছেন, ‘শেখ মুজিবের মতো নেতা নির্বাচনে কারচুপি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সংস্কার না হলে দেশে এক হাজার বছর পরেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’
রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি আদালতে রিমান্ড শুনানির জন্য হাজির করা হয়। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কমকর্তা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে।
শুনানিকালে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমি স্বীকার করি, ডামি নির্বাচন করেছি। তবে টাকা-পয়সা দেওয়ার কোনো প্রশ্ন আসেনি। আমার জীবনে আমি অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতি করিনি।’ এ সময় আদালত তাকে প্রশ্ন করেন, আপনার কাছে জাতির প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু বিতর্কমুক্ত নির্বাচন করতে পারেননি। তখন হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে কোন নির্বাচন বিতর্কিত হয়নি? ১৯৭২ এর ডিসেম্বরে সংবিধান রচনার তিন মাস পর ৭৩ -এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শেখ মুজিবের মতো নেতা নির্বাচনে কারচুপি করেছে বলে কথা উঠেছিল। ক্ষমতার যে লোভ এটা ভয়ানক। দেশে এক হাজার বছর পরও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। যদি না নির্বাচন কমিশনসহ অনেক কিছু সংস্কার না করা হয়।’
আদালত বলেন, ‘সাধারণত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো। কিন্তু এই নির্বাচনে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। এমনটি হওয়ার কারণ কী?’ তবে এ প্রশ্নের জবাবে নিজের দায় এড়িয়ে যান কাজী হাবিবুল আউয়াল। রাতের ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন রাতের বেলায় ভোটের বিষয় কিছু জানি না, রাতে আমি গভীর নিদ্রায় নিমগ্ন থাকি।’ এ সময় তার দীর্ঘ বক্তব্যে বিরক্তি প্রকাশ করে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘এখানে সাধু সাজার সুযোগ নেই। আপনার (হাবিবুল আউয়াল) নিজের অপরাধ ঢাকার সুযোগ নেই। আপনি কী করেছেন সেটা বলেন।’ পিপি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের টাকা দেয় এই আসামি তার হিসাব দেননি। এ ছাড়া তিনি নির্বাচনী বরাদ্দের টাকার হিসাব পেশ করেননি এবং এই টাকাগুলো তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে, যাতে আগামীতে আর এমন জঘন্য নির্বাচন কমিশনার এদেশে আর না জন্ম হয়।’
আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে গত ২২ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক তিন সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ, কে এম নুরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ ২৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান। দিনের ভোট রাতে করা, প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় গতকাল রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের ধারা যুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ আবেদন করলে গতকাল তা মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত। এই মামলায় গত রবিবার সাবেক সিইসি কে এম নুরুল হুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতের আদেশে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
