ইরানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা খর্বের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির উত্থাপিত এক প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট। গত শুক্রবার প্রস্তাবটির পক্ষে-বিপক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চাইলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। প্রস্তাবটি ৫৩-৪৭ ভোটে বাতিল হয়ে যায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যদের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিত হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন দুজন। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। প্রস্তাবটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন। তিনি কয়েক বছর ধরেই রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে কাজ করছেন। ভোটাভুটির আগে দেওয়া এক বক্তব্যে কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী শুধু কংগ্রেসেরই যুদ্ধ ঘোষণার একক অধিকার রয়েছে। এ কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই তার এ উদ্যোগ।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যুগান্তকারী এক রায় দিয়েছে; যার মাধ্যমে ট্রাম্প গৃহীত বিভিন্ন নীতি আটকে দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হলো আদালতের। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দেওয়া এই রায়ে বিচারপতিরা বিচারকদের ক্ষমতা সীমিত করেছেন। প্রেসিডেন্টের কোনো নীতি কোনো স্থানীয় আদালত চাইলেই আর তাৎক্ষণিকভাবে সারা দেশে স্থগিত করতে পারবেন না। যদিও প্রেসিডেন্টের নীতিগুলোর আইনি বৈধতা নিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া চলতে বাধা নেই। মামলাটি ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও রায়ে সরাসরি ওই আদেশের বৈধতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে, কারণ, এটি ভবিষ্যতে তার নতুন নীতিগুলো কার্যকর করা সহজ করে দেবে। রায় ঘোষণার পরপরই হোয়াইট হাউজ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটিকে একটি অসাধারণ সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেন।
