ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আমাদের প্রস্তুতি আছে কি না, সেটা জানতে চেয়েছেন। আমি বলেছি, আমরা ‘ফুল গিয়ারে’ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ কক্ষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেন সিইসি। এ বৈঠক ঘিরে নানা কথা শুরু হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বর্তমান ইসি বদলে যাচ্ছে এমন সংবাদও প্রচার হয়।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ছিল মূলত সৌজন্যমূলক। সেখানে আলোচনায় নির্বাচনের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই এসেছে। তবে আমি কোনো এজেন্ডা নিয়ে যাইনি।’
‘উনি একটা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন দিতে চান। আমাদের প্রস্তুতি আছে কি না, সেটা জানতে চেয়েছেন। আমি বলেছি আমরা ফুল গিয়ারে (পূর্ণোদ্যমে) নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সব প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছি, যাতে সরকার যখনই নির্বাচন করতে চায়, আমরা তা আয়োজন করতে পারি’ উল্লেখ করেন সিইসি।
নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়নি। ওটা আমার উদ্দেশ্যও ছিল না। নির্বাচনের তারিখ এবং তফসিল আপনারা যথাসময়ে জানতে পারবেন এবং সেটা নির্বাচন কমিশন থেকেই জানতে পারবেন। যখন সময় আসবে, অবশ্যই আপনাদের জানানো হবে। একটু অপেক্ষা করতে হবে।’ এই সৌজন্য সাক্ষাৎ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘আমিও বুঝতে পেরেছি, উনি অত্যন্ত আন্তরিক। একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর যাতে হয় এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে হয় এ বিষয়ে উনার আন্তরিকতা প্রশ্নাতীত। আমাদের আন্তরিকতাও প্রশ্নাতীত। এখানে একটা সুবিধা হয়েছে, আমাদের ওয়েভলেংথ মিলে গেছে। অন্তত নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা ও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে আমরা এখন একই ওয়েভলেংথে আছি।’
সিইসি বলেন, ‘আমরা বলতে দ্বিধা করি না উনি এখন পর্যন্ত কোনো দিন আমাদের কোনো দলের পক্ষে কাজ করার জন্য বা কাউকে পক্ষপাতিত্ব করার জন্য কিছু বলেননি এবং উনি পরিষ্কার ভাষায় বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন, উনার কথাবার্তা বা নির্দেশনা আমরা বুঝতে পারি। তিনি জাতিকে একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চান। সৌজন্য সাক্ষাৎকারেও সেরকম ইঙ্গিত দিয়ে আমাদের প্রস্তুতি আছে কি না, সেটা জানতে চেয়েছেন।’
দেশে দুটি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে প্রথমত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দ্বিতীয়ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আপনি কোন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি এই মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে। আপনারা যে প্রস্তুতি দেখতে পাচ্ছেন, তা জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করেই। স্থানীয় সরকার কেন্দ্র করে আমাদের কোনো প্রস্তুতি নেই। তবে এমন হতে পারে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে হতে পারে, তখন তো ভোটার তালিকাটা ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের ফোকাস জাতীয় নির্বাচন। কারণ প্রধান উপদেষ্টা স্থানীয় নির্বাচনের কথা বলেননি। তিনি জাতিকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দেশ-বিদেশে যেটা বলছেন, সেটা জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কেই। আমরা তার সেই প্রতিশ্রুতি এবং কমিটমেন্ট কেন্দ্র করেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্য যে সময় সেটা আপনারা যতটুকু জানেন, আমিও ততটুকুই জানি। প্রথমে এপ্রিলের কথা এসেছিল। পরে লন্ডনে বৈঠকের পর ফেব্রুয়ারির বিষয়টি এসেছে। তবে সেসব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কোনো কথা হয়নি।’
এনসিপি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি তুলেছে এ বিষয়ে সিইসির মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। যারা দাবি করেছে, তারা রাজনৈতিক দল। তারা নানা ধরনের বক্তব্য দিতে পারে। আমি তো একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখানে এসেছি। উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। আমরা তো আগস্ট বিপ্লবের পরের ফসল। নানা কথা আসতে পারে। তবে আমি নিশ্চিত, আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা যে যাই বলুক, দিন শেষে ওনারা সবাই দেশের মঙ্গলই চান। আমি বিশ্বাস করি, ওনারা একসময় একটি সমঝোতায় পৌঁছাবেন, সবকিছুরই সমাধান হবে। আমার ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থা আছে।’
চলমান পরিবেশে ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ক্রেডিবল নির্বাচন করা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ। আপনারা সবাই আমাদের সঙ্গে থাকবেন। দেশের জনগণকে সঙ্গে নেব। দেশের মানুষ যদি সঙ্গে থাকে, অবশ্যই পারব।’
