শিক্ষার্থীদের তোপে শিক্ষকের পদোন্নতি বোর্ড প্রত্যাহার

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৫, ০৬:১৪ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তীর পদোন্নতি বোর্ড শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি হত্যাচেষ্টা মামলার একজন আসামি। গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলন শুরু করেন এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পদোন্নতি বোর্ড প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে হেফাজতে ইসলামের কর্মী এনামুল হক চৌধুরী চিন্ময় কৃষ্ণের অনুসারীদের হামলার শিকার হন। এতে তিনি কিরিচের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হন এবং তার ডান হাত ভেঙে যায়। এ ঘটনায় তিনি গত ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণকে প্রধান আসামি করে ১৬৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় কুশল বরণ চক্রবর্তী ২০তম আসামি। এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা’ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করায় কুশল বরণ শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তিনি ভারতের পরামর্শে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার চেষ্টা করেছেন এবং ভারতীয় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তারা তার গ্রেপ্তারের দাবিও জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কুশল বরণের পদোন্নতি বোর্ড প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কিছু সংবেদনশীল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোর্টের মতো বিচার করতে পারে না। আমরা কাউকে জেল-জরিমানা করার এখতিয়ার রাখি না। তবে আমাদের গঠিত কমিটিগুলো ধীরে ধীরে কাজ করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত