আজ রবিবার পালিত হচ্ছে মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন পবিত্র আশুরা। হিজরি সনের মহরম মাসের ১০ তারিখে দিনটি স্মরণ করা হয় নানা ঐতিহাসিক ঘটনার জন্য—বিশেষ করে কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য, যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) স্বপরিবারে শাহাদত বরণ করেন। এদিন মুসলিম সমাজে ত্যাগ, শোক ও সত্য প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
আজ সকাল ১০টার পর রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হোসাইনী দালান ইমামবাড়া প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় তাজিয়া মিছিল। চার শত বছরের পুরোনো এই মিছিলটি আজিমপুর, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, সায়েন্সল্যাব ও ধানমন্ডি এলাকা ঘুরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মিছিলে অংশ নিতে আসা মানুষদের অধিকাংশই ছিলেন কালো পোশাকে, কেউবা প্রতীকী ছুরি, নিশান, পতাকা ও বেস্তা হাতে মিছিলে যোগ দিয়েছেন।
মিছিলে অংশ নিতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ‘এ দিনটা আমাদের জন্য কষ্টের। ইমাম হাসান এবং হোসেনকে কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি স্বপরিবারে শহীদ হয়েছিলেন।’
তাজিয়া মিছিলকে ঘিরে হোসাইনী দালানসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
দিনটি উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। অনেকেই নফল রোজা রাখছেন এবং ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আশুরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ৬১ হিজরির এই দিনে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর বীরত্বপূর্ণ শাহাদত। তাঁর আত্মত্যাগ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক অনন্য উদাহরণ।
শিয়া মুসলিমরা আশুরায় ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতকে কেন্দ্র করে শোকানুষ্ঠান, মাতম ও তাজিয়া মিছিল আয়োজন করে থাকেন। অন্যদিকে সুন্নি মুসলিমরা নবী করিম (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে এ দিনে নফল রোজা পালন, দোয়া, জিকির ও ইবাদতে সময় কাটান। হাদিস অনুযায়ী, নবী মুসা (আ.)-এর ফেরাউনের উপর বিজয়ের দিন স্মরণে মহানবী (সা.) আশুরায় রোজা রাখতেন এবং উম্মতদেরও মহররমের ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
পবিত্র আশুরা তাই মুসলিমদের কাছে শুধু শোকের নয়, ন্যায়ের পথে আত্মত্যাগের এক মহিমান্বিত স্মারক।
