আষাঢ় মাসের অবিরাম বর্ষণে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর আশ্রয়ন পল্লী থেকে তালুকদারহাট সড়কের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে। কাদা-মাটির সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গর্তের কারণে জনসাধারণ চলাচলে ভীষণ কষ্টে পড়ছেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা কেন্দ্র থেকে দ্রুত ও সহজ যাতায়াতের জন্য থানাব্রিজ থেকে শ্রীরামপুর আশ্রয়ন পল্লী পর্যন্ত পাকা সড়ক নির্মিত হলেও এর অগ্রভাগের মাত্র এক কিলোমিটার অংশ এখনও কাঁচা থাকায় দুর্ভোগ বাড়ছে। মুরাদিয়া নদীর তীরে অবস্থিত পাউবো সড়ক প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে জামলা বাজার থেকে আশ্রয়ন পল্লী পর্যন্ত সড়কটি পাকা করা হয়। তবে তৎকালীন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা বেগম ব্যক্তিগত স্বার্থে তার শ্বশুরবাড়ির কাছাকাছি এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করেন।
একই সড়কের অগ্রভাগে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঐতিহ্যবাহী তালুকদার বাজার অবস্থিত, যেখানে প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে। এ রাস্তা দিয়ে দক্ষিণ শ্রীরামপুর, দক্ষিণ মুরাদিয়া, লোহালিয়াসহ ১০টি গ্রামের মানুষ নিত্যদিন যাতায়াত করেন।
বর্ষাকালে রাস্তার পাকা না থাকায় যান চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ দেখা দেয়। চলতি বর্ষায় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি ও গর্ত রাস্তা পুরোপুরি কাদা-মাটিতে ভরে গেছে। ফলে যানবাহন চলানো তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাফেরা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তালুকদার বাজারের ব্যবসায়ীরা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তা পাকা করার দাবি জানাচ্ছেন।
তালুকদার হাটের ব্যবসায়ী শাওন বলেন, ‘বর্ষাকালে রাস্তায় কাদা ও গর্ত থাকায় মালামাল পরিবহন করতে অনেক কষ্ট হয়। বিকল্প পথে মুরাদিয়া বোর্ড অফিস হয়ে পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হয়, যার কারণে পরিবহণ খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এতে ব্যবসায় ক্ষতি সহ্য করতে হচ্ছে।’ সরোয়ার তালুকদার, জাফর ও বাবুল হাওলাদারও একই অভিযোগ জানিয়েছেন।
স্কুল শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, মাত্র এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা থাকার কারণে তাকে প্রতিদিন বিকল্প পথে পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। তবে সড়কটি পাকা হলে অটোবাইকে মাত্র ১০ টাকায় সহজে যাতায়াত সম্ভব হতো। তার মতো সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থী ও প্রবীণ পথচারীদের জন্য এই কাঁচা রাস্তা দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বিরাট অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত রাস্তা পাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আজাহার আলী মৃধা বলেন, ‘রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক। আশ্রয়ন পল্লী থেকে ডাকাতিয়া খাল হয়ে তালুকদার হাট পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ প্রয়োজন। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘বরাদ্দের অভাবে তখন প্রকল্প সম্প্রসারণ সম্ভব হয়নি। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ চেয়ে দ্রুত সড়ক পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ব্রিকস সম্মেলনে ক্ষোভ ঝাড়লেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জানালেন প্রাণহানির সংখ্যা
বড় সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান!