সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথকে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব থাকাকালীন সময়ে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় তার পুত্র নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফলে জালিয়াতি করে জিপিএ-৫ পাইয়ে দেয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়। এই অপরাধে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শৃঙ্খলা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শতরুপা তালুকদার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে নারায়ণ চন্দ্র নাথকে গত বছরের সেপ্টেস্বরে ওএসডি করার পর গতকাল ৭ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথ ছেলের ফলাফল জালিয়াত মামলায় গত ১৭ জুন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে নারায়ণ চন্দ্র নাথকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯ (২) ধারা অনুযায়ী নারায়ণ চন্দ্র নাথ গত ১৭ জুন থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নারায়ণ চন্দ্র নাথ কে ওএসডি করার পর তার বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে এবং ফলাফল জালিয়াতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করার নির্দেশনা দেয়া হয় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানকে। সেই অনুযায়ী চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন পাঁচলাইশ থানায়। ফলাফল জালিয়াতির সেই মামলায় তিনি গত ১৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।
এর আগে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর দেশ রূপান্তরে সর্বপ্রথম ‘সচিবের ছেলের পুন:নিরীক্ষণ আবেদনের রহস্য’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এছাড়া গত বছরের ১০ মার্চ ‘পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের চিরকুট ফাঁস’ শীর্ষক প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছিল দেশ রূপান্তরে। সেই রিপোর্টের পর অন্যান্য মিডিয়ায়ও নারায়ণ চন্দ্র নাথের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম ও গত বছরের ৪ আগস্ট তদন্ত রিপোর্ট জমাদানের পর ওএসডি করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর এবার আদালতে আত্মসমর্পণের পর সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।
