আরচারির সা. সম্পাদকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫, ১২:৩৩ এএম

খুব বেশিদিন হয়নি বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন তানভীর আহমেদ। এর মধ্যেই খেলার বাইরের এক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় জড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন তানভীর। তার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও ক্রোয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর নামে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ করেছেন মানবাধিকারকর্মী পরিচয় দেওয়া এক নারী। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের কাছে প্রতিকার চেয়ে গত ২২ জুন জাহানারা চৌধুরী ঝর্না নামে এক নারী লিখিত অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তানভীর অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন, বানোয়াট দাবি করেছেন।

লিখিত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত দুজনই রাজধানীর ওয়ারী অঞ্চলের বাসিন্দা। জাহানারা চৌধুরী জানান, পূর্বপরিচিত হওয়ায় তানভীর তাকে অস্ট্রেলিয়া ও ক্রোয়েশিয়ায় চাকরি দিয়ে লোক পাঠানোর প্রস্তাব দেন। এর বিনিময়ে কিছু অর্থ অর্জনের প্রলোভনও দেখানো হয়। প্রতিশ্রুতি পেয়ে অভিযোগকারী আটজনকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর জন্য গত ১০ এপ্রিল তার ভাগ্নের ব্যাংক হিসেবের মাধ্যমে তানভীরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের ব্যাংক হিসাবে প্রথম প্রস্থে ২ লাখ টাকা পাঠান। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন মাধ্যমে তানভীরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একই ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা জমা করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা ও দুবাই থেকেও একাধিক আগ্রহী ব্যক্তি তানভীরের ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময় টাকা জমা করেন। এ ছাড়া তানভীরের বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার আরাফাত জামান অপুর কাছে টাকা দেওয়ার অভিযোগও করেন জাহানারা চৌধুরী। লিখিত অভিযোগে তিনি ৪৩ লাখ টাকা তানভীর ও তার ব্যবসায়িক অংশীদারকে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে প্রতিশ্রুতি মতো অস্ট্রেলিয়ায় আটজনকে এবং ক্রোয়েশিয়ায় চারজনকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেননি তানভীর। এর ফলে অগ্রিম অর্থ দেওয়া ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত জাহানারা চৌধুরীকে চাপ প্রয়োগ করছেন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। জাহানারা চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তানভীর ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত। তাই তাকে সরল বিশ্বাস করেছিলাম। তানভীর কথাতেই আমি কিছু পরিচিতজনকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দিই। পাশাপাশি আমার কাছে জমাকৃত অর্থও তানভীরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করি। অথচ তানভীর ও তার বন্ধু অগ্রিম টাকা নিয়েও ভিসা ও বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করেননি। আমাদের ভুয়া ভিসা ও টিকিট দেখিয়ে প্রতারিত করেছেন। তাই বাধ্য হয়েই সুরাহা পেতে আমি অভিযোগ করেছি।’

তানভীর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আসলে বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসার সঙ্গে আমি জড়িত না। আমার বন্ধু ও অন্য একটি ব্যবসার অংশীদার অপু কনসালটেন্সির সঙ্গে জড়িত। তাকে সহায়তা করতেই আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে দিয়েছি। আমার ইমেজ নষ্ট করতে এটা করা হয়েছে। আমার জানা মতে, আটজনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বৈধ ভিজিট টু ওয়ার্ক ভিসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর জন্য প্রতিশ্রুত অর্থ জাহানারা চৌধুরী ও তার লোকজন জমা দেয়নি। পরে যখন বাকি টাকা ও বিমান ভাড়ার টাকা চাওয়া হয়, তখন তারা কেউ টাকা দিচ্ছিল না। ফলে অস্ট্রেলিয়ার স্পনসর বাধ্য হয় ভিসা বাতিল করতে। এই মহিলা আমার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন, আসলে ভিসা করে দেওয়া বাবদ যে টাকা সে নিজে নিয়েছে, সেটা আত্মসাৎ করতে এবং আমাকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে বিপদে ফেলতে।’ তানভীর জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে বিদেশে অবস্থান করা তার ব্যবসায়িক অংশীদার আরাফাত জামান ফিরে এলেই বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে সুরাহা করবেন।

এদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব আমিনুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক সদস্যের কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত