খুলে দেওয়া হলো মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০ ফটক

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৫, ০৭:৪৯ পিএম

ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় সৃষ্ট বন্যার পানি সরতে খুলে দেওয়া হয়েছে সোনাগাজীর মুহুরী সেচ প্রকল্পের সব ফটক। বন্যার পানি দ্রুত গিয়ে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্পটি খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব অংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মুহুরী সেচ প্রকল্প। এটি মূলত কালিদাস পাহালিয়া, বড় ফেনী মুহুরী, কুহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হলে উজানে নেমে আসা পানি নিষ্কাশনে মুহুরী প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রেগুলেটরের ৪০টি গেট খোলা আছে। যেগুলো দিয়ে দ্রুত গতিতে পানি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে।

সরেজমিন আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে দ্রুতগতিতে পানি সাগরের গড়াচ্ছে। বর্তমানে ফেনী নদীর পানি স্বাভাবিক রয়েছে।

সূত্র জানায়, মুহুরী প্রকল্পের মাধ্যমে গেট খোলা রেখে বা বন্ধ রেখে পানির স্তর নিয়ন্ত্রণ করা হয়। জোয়ারের কারণে উল্টা দিক থেকে যেন পানি প্রবেশ করতে না পারে এ জন্য গেটগুলো বন্ধ রাখা হয়। এবারও জোয়ারের সময় গেটগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে দুইবার ২ ঘণ্টা করে গেটগুলো বন্ধ রাখা হয়।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, পানির চাপ বেড়ে গেলেই ৪০টি গেট একসাথে খুলে দেওয়া হয়েছে। সারাদিন পানি নামছে। শুধু জোয়ারের সময় গেট বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সেচ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

ফেনী নদী, মুহুরী নদী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহকে আড়ি বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ৪০ ফোক্ট বিশিষ্ট একটি বৃহদাকার পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করে ফেনী জেলার ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী এবং চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার কিয়দংশ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বন্যার প্রকোপ কমানো ও আমন ফসলে অতিরিক্ত সেচ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল মুহুরী সেচ প্রকল্প।

সিডা, ইইসি, বিশ্বব্যাংকের অর্থ সহায়তায় জাপানের সিমুজু কোম্পানি ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে। এর ফলে ২০ হাজার ১৯৪ হেক্টর এলাকায় সেচ সুবিধা এবং ২৭ হাজার ১২৫ হেক্টর এলাকা সম্পূরক সেচ সুবিধার আওতায় আসে। সেচ প্রকল্পের তৈরির পর নদীভাঙন বন্ধ হওয়াতে এই এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত দুই হাজার মৎস প্রকল্প। এসব মৎস প্রকল্প মাছের স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত