অবিরাম বর্ষণে দুমকিতে পানির নিচে কয়েক শ হেক্টর জমি

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৫, ০৮:৩৯ পিএম

পটুয়াখালীর দুমকিতে অবিরাম বর্ষণ ও উপচে পড়া জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক শ হেক্টর জমির আউশ ধান এবং আমন বীজতলা। 

গত ৫ দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মাঠ-ঘাট ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। গত শনিবার (৫ জুলাই) রাতে লেবুখালী ফেরিঘাটের পশ্চিমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা ভেরিবাঁধের ২/৩টি পয়েন্টে বাঁধ ধসে পানি প্রবেশ করে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাঁধের বাইরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ৫-৬ ফুট উচ্চতার পানিতে এসব এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে মাঠ-ঘাট ফসলি জমি তলিয়ে থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক শ হেক্টর জমির আউশ ধান এবং আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশীরভাগ বীজতলাই ২/৩ ফুট পানির নীচে চলে যাওয়ায় ক্ষেতের বীজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কৃষকদের।

এ ছাড়া লোহালিয়া নদীর বৃদ্ধিপাওয়া জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বগা ও চরগরবদি ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে। জোয়ারের সময় ঘাটের পন্টুনসহ আশপাশ ডুবে যায়। ৫-৬ ফুট পানি থাকায় কোনও যানবাহন ফেরিতে উঠতে পারছে না। ফলে জোয়ারের সময় বাউফল-দুমকি-পটুয়াখালী ও বরিশালসহ বিভিন্ন রুটের যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জলিসা গ্রামের কৃষক সৈয়দ জিয়াউল হাসান ও সৈয়দ আতিকুল ইসলাম জানায়, জলাবদ্ধতায় তাদের সবগুলো আমনের বীজতলা ২/৩ ফুট পানিতে তলিয়ে আছে। এতে আমনের বীজ সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ায় উদ্বিগ্ন তারা।

একই অভিযোগ শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক হুমায়ূন কবির হাওলাদার, মোস্তফা খান, আবদুল মজিদ হাওলাদারসহ অনেকের।

চরগরবদি ফেরিঘাটের ব্যবসায়ী মো.নুরুজ্জামান জানান, লোহালিয়া নদীর উপচে পড়া জোয়ারের পানিতে ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় ফেরি পারাপারে বিঘ্ন ঘটছে। দূরপাল্লার পরিবহন বাস ফেরিতে উঠতে পারলেও মাইক্রো, পিকআপসহ ছোট ছোট যানবাহন পারাপাওে মারাত্মক অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। ভাটায় পানি কমে গেলে পারাপার হতে হয়। এতে যাত্রীসহ সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত