ফসলি জমি-বাড়িঘর হারিয়ে দিশেহারা যমুনা তীরের মানুষ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৫, ০৯:০৩ পিএম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে সিরাজগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রামে
যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদী পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলা গুলি হলো সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলা। ইতোমধ্যে এসব এলাকার বেশকিছু আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে নদীতীরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। এদিকে দিনভর বৃষ্টির কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। নিম্নআয়ের মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর উপজেলার মেঘাই পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮১ ও কাজিপুর পয়েন্টে ২০৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি ও বাহুকা, কাজীপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, খাসরাজবাড়ি ইউনিয়ন, চৌহালী উপজেলার খাষকউিলিয়া ইউনিয়নের জনতার স্কুল এলাকা, উমারপুর ইউনিয়ন, স্থল ইউনিয়নের তেঘরি, কুড়াগাছা, লাঙ্গলমুড়া, ছোট চৌহালী ও ঘোড়জান ইউনিয়নের ফুলহারা ও চালুহারা গ্রামে, শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের গোপালপুর, সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর, শ্রীপুর, কুরসি, মাকড়া, ভাটদিঘুলিয়া ও কৈজুরী ইউনিয়নের চর ঠুটিয়া গ্রাম এবং বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন এলাকার আখ, পাট, বাদাম, পটল ও সব্জি ক্ষেত, কাউনসহ বহু ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের তাণ্ডবে কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের ভেটুয়া গ্রামে অন্তত ১০০টি বসতবাড়ি ও শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের অন্তত ৫০টি বাড়ি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

এ ছাড়া কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের ফুলজোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরগিরিশ নিম্ন মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় ও ভেটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে পড়েছে। এদিকে চৌহালী উপজেলার স্থল ইউনিয়নের তেঘরি এলাকার মানুষ ভাঙনরোধে গত ৬ জুলাই নদীতীরে মানববন্ধন করেছেন।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, নদীতে পানি বাড়ার কারণে প্রবল স্রোতে বইছে। এ কারণে নদীতীরের বেশ কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটপিয়ারী ও বাহুকা এলাকায় জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া নদীতীরে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নদীতে পানি বাড়লেও এই মুহূর্তে ব্যাপকভাবে বন্যার আশঙ্কা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত