মার্কিন শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের প্রত্যেকটি খাত: সাকিফ শামীম

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫, ০৬:২২ পিএম

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি প্রার্থী সাকিফ শামীম। গার্মেন্টস, ব্যাংকিং, বীমা, পরিবহন, বন্দর, প্যাকেজিং—রপ্তানি ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন তিনি।

শুক্রবার (১১ জুলাই) এক বিবৃতিতে তরুণ উদ্যোক্তা ও ল্যাবএইড ক্যানসার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে সাকিফ শামীম, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাক খাত এ শুল্কের কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আগে থেকেই গড়ে ১৫ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করা ছিল। এর সঙ্গে নতুন ৩৫ শতাংশ শুল্ক যোগ হলে মোট শুল্কের হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তাই এই শুল্কহার কার্যকর হলে, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব হয়ে যেতে পারে।

৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলে পুরো অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গার্মেন্টস, ব্যাংকিং, বীমা, পরিবহন, বন্দর, প্যাকেজিং—রপ্তানি ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরেই প্রভাব পড়বে। এতে করে অনেক কারখানা টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খাবে। চলমান এই সংকট উত্তরণে সরকার টু সরকার (জিটুজি)  আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে দ্রুত আলোচনায় বসা উচিত বলে মনে করেন এ তরুণ উদ্যোক্তা।

সাকিফ শামীম আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণে ব্যবসায়ী সমাজ উদ্বিগ্ন। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য সমর্থন করে তিনি বলেন, ওয়ান টু ওয়ান নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে শুল্কহার কমিয়ে আনার বিষয়ে জোর দিতে হবে। এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের বাণিজ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর ইউএসটিআরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শুল্কছাড়ের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত নেগোসিয়েশন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের বিষয়টি শুধু শুল্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বাণিজ্যের বিষয়, তাই এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে বাণিজ্যনীতিসহ অনেক বিষয় জড়িত। বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওর বিধিবিধান মেনে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তি শুল্কের সমাধান করতে হলে সেই নীতিমালাগুলোতেও পরিবর্তন আনতে হবে। আর সেটি করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সব দেশের জন্য। তাই এসব বিষয়ে সমঝোতা করতে হবে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত