ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী সোহাগকে (৩৯) নির্মমভাবে পাথর চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্য’ ব্যানারে বটতলা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার বটতলায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
বিক্ষোভে অংশ নেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, ইসলামী ছাত্রশিবির, গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন, আধিপত্যবাদ বিরোধী মঞ্চ ও বিপ্লবী সাংস্কৃতিক মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জাবি শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আহসান লাবিব।
সমাবেশে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান বলেন, ‘আমরা গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে বলে দিতে চাই, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, নৃশংসতা এই বাংলাদেশে স্থান হতে দেবনা। গত নয়মাসে বিএনপির দলীয় অন্তকোন্দলের কারণে প্রায় দেড়শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে৷ পুরাতন রাজনৈতিক সংস্কৃতি এই বাংলাদেশে আর হতে দেব না। আপনারা যদি না শুধরান তাহলে হয়তো আগামীতে আপনাদের ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন পূরণ হবে কিন্তু কতদিন ক্ষমতায় টিকে থাকবেন সেটা ছাত্র-জনতা আবার ঠিক করে দেবে।’
ইসলামী ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি শাফায়েত মীর বলেন, ‘হাসিনা সরকারের জুলুম, গুম, খুন, চাঁদাবাজি, নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছি। আবার যারা আওয়ামী লীগের পুরানো বন্দোবস্ত চালু করতে চায়, আবার চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, খুন করতে চাচ্ছে সেই দলকে আমরা বলব, চাঁদাবাজি না করে ভিক্ষা করুন আমরা ভিক্ষা দেব। কিন্তু আমরা আপনাদের জুলুম, নির্যাতন, খুন মেনে নেব না। প্রয়োজনে আবার রাজপথে নামব।’
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জাবি শাখার সদস্য সচিব তৌহিদ সিয়াম বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এক শ্রেণির সুশীলকে দেখি যারা গণ-অভ্যুত্থানকে মব বলে চালাতে চায়। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি খুনের ঘটনা যেখানে মানুষকে পাথর চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেটা নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নাই। বিএনপি যদি এই খুন, রাহাজানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে হয়তো সেদিন বেশিদূরে নেই, যে পথে আমরা লীগকে পাঠিয়েছি সেই পথে ফ্যাসিবাদী আমলে আমাদের সহযোদ্ধা বিএনপিকেও সেই পথে হয়তো হাঁটতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আমরা কোনো বিভেদ চাই না, আমরা চাই, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ যারা আমাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।’
নীরব বন্ধু
বিয়ের ৩০ বছর পর একসঙ্গে দাখিল পাস করলেন দম্পতি