ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য

বাংলাদেশে ১৮ মাসে দেড় লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৫, ০৭:২৮ এএম

সর্বশেষ ১৮ মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা। এর ফলে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে নতুন মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। গতকাল শুক্রবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনে চলমান সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। সংস্থাটি জানায়, ২০১৭ সালের পর এটি সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আগমনপর্ব। সে বছর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। বর্তমানে কক্সবাজারের মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ইতিমধ্যে বসবাস করছে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। নতুন আগত শরণার্থীদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ফলে খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জ্বালানিসহ সব খাতে চাপ বাড়ছে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তবে অনেকে এখনো অনানুষ্ঠানিকভাবে শিবিরে অবস্থান করছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা না পাওয়া গেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জরুরি সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষত সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হতে পারে এবং রান্নার জন্য ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস ফুরিয়ে যেতে পারে। ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিশু, যার মধ্যে ৬৩ হাজার নতুন আগত, শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হতে পারে। ইতিমধ্যে সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব অনুভব করছেন রোহিঙ্গারা।

ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যানুসারে, অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অন্য দেশে পাড়ি দিচ্ছেন। যদিও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ, তবু জরুরি পরিস্থিতিতে নতুন আগত শরণার্থীদের কক্সবাজারে সরকারের অনুমতিক্রমে মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। 

ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ দেওয়া হোক।’ একই সঙ্গে সংস্থাটি স্মরণ করিয়ে দেয়, বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা গত কয়েক বছরে প্রশংসনীয় হলেও, অর্থায়নের ঘাটতি এখন প্রতিটি খাতে গুরুতর সংকট সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ বা এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলো আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া একা কিছু করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছে ইউএনএইচসিআর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত